চলতি বছরে বন্যায় গাইবান্ধার বন্যাকবলিত ছয় উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে চারার তীব্র সংকট। ফলে এখনো অনাবাদি রয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। অন্য দিকে হাটে চারার আমদানি থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলায় ২ হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, চারার অভাবে এখনো ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ সম্ভব হয়নি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লেঙ্গাবাজার গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া (৫৫) বলেন, ধারদেনা করে জেলার সাদুল্লাপুর হাট থেকে প্রতি পোন বেছন (চারা) ৫০০ টাকা দরে ছয় পোন বেছন (চারা) সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। কিন্তু বাকি দুই বিঘা জমিতে বেছন (চারা) অভাবে এখনো আমন ধান রোপণ করতে পারি নাই। ফুলছড়ি উপজেলার কৃষক আমজাদ মিয়া (৪৫) বলেন, চারার দাম বেশি হওয়ায় না কিনে বাড়ি ফেরত এসেছি।
মঙ্গলবার বিকালে সাদুল্লাপুর হাটে গিয়ে দেখা যায় উঁচু এলাকার কৃষকরা চারা বিক্রি করছেন। কিনছেন বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। প্রতি পোন আমনের চারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাটে আসা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৬) বলেন, একটি ছাগল বিক্রি করে দুই বিঘা জমিতে ধান ও এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। কিন্তু বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় সরকারিভাবে ৪২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা দিয়ে ৯৩৩ হেক্টর জমিতে আমন লাগানো যাবে। অচিরেই এগুলো বিতরণ করা হবে।