২০১০ সালে হঠাত্ করেই একদিন একটি স্কুলে আটজন শিশু ঘুমিয়ে পড়ে। বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলল। এর এক মাস পর একইসঙ্গে ৬০ জন অধিবাসী হঠাত্ করে একই সময়ে ঘুমিয়ে পড়ল। এবার বিষয়টি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার শুরু হলো, শুরু হলো গবেষণা।
এক জাদুর শহর, মায়ার শহর, কাজাখাস্তানের একটি ছোট্ট শহর কালাচি। জাদুর ছোঁয়ায় সময়ে-অসময়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন সেই মায়াপুরীর অধিবাসীরা। গভীর ঘুম, আর ঘুমাচ্ছেন প্রায় সপ্তাহখানেক। জেগে ওঠার পর কিছুতেই আর ঘুমের সময়গুলোর কথা মনে করতে পারছেন না তাঁরা। চিকিত্সাবিজ্ঞান একে ‘স্লিপ-হলো’ (Sleep hollow) বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে সবাই একই সময়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন না। ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তির পাশের জন দিব্যি জেগে থাকতে পারছেন। তাই ঘুমিয়ে থাকাটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে এখানকার মানুষের। ঘুম আসার আগে মাথা ধরা, ঝিমঝিম ভাব, অবসাদ লাগা, হাঁটতে না পারা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। ভয়ের বিষয় হলো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেও অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ছেন। ছোট ছেলেমেয়েরা খেলতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, কেউবা রাস্তায়, কেউবা পার্কে, যার যেখানে ঘুম পাচ্ছে সে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ছে। শুধু মানুষই নয়, সময় অসময়ে ঘুমিয়ে পড়ছে এখানকার পশুপাখিও।
এই শহরের বাসিন্দারা হুট করেই ঘুমের কোলে ঢলে পড়ছেন—বিশেষজ্ঞরা এর কোনো কারণ খঁজে বের করতে পারছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কালাচি শহরটি সোভিয়েত আমলে নির্মিত একটি ইউরেনিয়াম খনির পাশে হওয়ায় ইউরেনিয়ামের তেজষ্ক্রিয়তার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। ইউরেনিয়াম খনি থেকে ভেসে আসা কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য হাইড্রোকার্বন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে—এমনটাও হতে পারে, আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে বাতাসে কোনো ভাইরাস কিংবা গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তাঁরা। ভয়ে অনেকেই বাসভূমি ছেড়ে অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন।