বরিশালের কৃষি, প্রাণিসম্পদ সড়ক ও বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি

সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বরিশালের নদনদীর পানি সর্বোচ্চ লেভেল অতিক্রম করে। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিগত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান থাকলেও গত বুধবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার কৃষি, মাছ, প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, উপকূলীয় বাঁধ, কাঁচা ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এসেছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ফলে ২১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমির ফসল, ৯০ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ, ৬ লাখ ৮০ হাজার হাঁস-মুরগিসহ গবাদি পশু, ১০ হাজার ১০১টি ঘেরের মত্স্যসম্পদ, ৫১০ মিটার বাঁধ ও ২৬০ মিটার নদীভাঙন, ১২টি প্রাথমিক, ২৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রায় ৩৮৩ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে করে রোপা আমন, উফশী আমন, আমন বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, পানের বরজ বিনষ্ট হওয়ার ফলে কৃষির প্রায় ১৩ দশমিক ৯৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত পানির কারণে জেলার মত্স্যসম্পদের প্রায় ৩৮ দশমিক ২ কোটি টাকার ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ৩০ ভাগ ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের প্লাবনে আউশ, রোপণ করা আমন এবং আমনের বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সবজি অর্ধেকেরও বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে পানের বরজের।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নানান সহায়তা প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দুস্থ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে সৃষ্ট পানিতে পড়ে গত ১৯ আগস্ট মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মৃত্যুবরণকারী দুই শিশুর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জোয়ারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা ও সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ফসলের সর্বনাশ হয়ে গেছে জোয়ারের পানিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ জানান, মেঘনা নদীর পানি বুধবার সকালে সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় বিপত্সীমার ১ দশমিক চার ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও গত সপ্তাহে বরিশাল বিভাগের ১২৫টি নদনদীর মধ্যে বেশির ভাগ নদনদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করে। এ সময় গত ২০ বছরের মধ্যে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি সর্বোচ্চ লেভেল অতিক্রম করার তথ্য পাওয়া যায়।