বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের সময়সীমা আরো আট মাস পিছাল। মহামারি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির স্বাভাবিক গতি নানা দিক থেকে ব্যাহত হয়েছে।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান প্রকল্পের প্রথম ফেইজের সমাপ্তির সময়সীমা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৮ সালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
প্রকল্পের উপপরিচালক (ডিএনপিডি) অধীর চন্দ্র দাশ চট্টগ্রামস্থ প্রকল্প কার্যালয় থেকে ইত্তেফাককে জানান, করোনাসহ নানা কারণে প্রকল্পটির কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে আট মাস সময় নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে আবার প্রকল্পটির সব কম্পোনেন্টসহ সামগ্রিক কাজ পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে পরামর্শক সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মাধ্যমে দেশের চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নে শিগিগরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। বর্তমানে দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
উপপরিচালক আরো বলেন, এই প্রকল্পের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সাতটি এবং বরিশাল ও খুলনায় ৯টিসহ সমুদ্র উপকূলে মোট ১৬টি আন্তর্জাতিক মানের মেরিন ফিশারিজ সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট স্থাপন। এজন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি চেকপোস্টে সমুদ্রে মনিটরিং ও সব ধরনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে দেওয়া হবে স্যাটেলাইট সংযোগ। তাতে বসানো হবে ভেসেল ট্র্যাকিং মনিটরিং সিস্টেম (ভিটিএমএস) এবং অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস)। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে ৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশ সরকার ১৫ শতাংশ।
প্রকল্প সূত্র জানায়, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের ১৬টি চেকপোস্ট স্থাপিত হলে এআইএসের আওতায় উপকূলের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় নৌযানগুলোর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড মনিটরের পর্দায় দৃশ্যমান হবে। এতে জলদস্যুতা ও ভিনদেশি জাহাজের চুরি করে মাছ ধরাসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা যাবে। অপরদিকে ভিটিএমএসর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা বিভিন্ন জাহাজের গতিবিধিসহ নানা বিষয় মনিটরিং ও ট্র্যাকিং করা যাবে। এতে গভীর সমুদ্রও নিখুঁত নিরাপত্তার অধীনে আসবে। সমুদ্র সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে। আহরিত সম্পদের পরিমাণ জানা যাবে।
সূত্রটি জানায়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টগুলোর মধ্যে থাকবে সমুদ্রের বাগদা চিংড়ির উত্পাদন বৃদ্ধিতে বিশ্বমানের প্রক্রিয়া চালু।