চাঁদা না দেওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ

দাবিকৃত লাখ লাখ টাকার চাঁদা না দেওয়ায় রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলায় মত্স্য ব্যবসায়ীদের গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মাছ আহরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। আর হ্রদে মাছ আহরণ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তর কাপ্তাই হ্রদসংশ্লিষ্ট খুচরা ও পাইকারি মত্স্য ব্যবসায়ী, মাঝি, শ্রমিকসহ পেশাজীবী হাজারও মানুষ।

কাপ্তাই মত্স্য ব্যবসায় সমিতির নেতা মো. জসিম উদ্দিন জানান, পাহাড়ের একটি সশস্ত্র গ্রুপ আমাদের কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঐ গ্রুপ ছাড়াও আরো মোট চারটি গ্রুপ প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বুধবার পর্যন্ত ছিল এই চাঁদা প্রদানের শেষ সময়। এ সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় বুধবার বিকালে তারা জেলেদের মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয় তোমরা আর হ্রদে মাছ ধরতে পারবে না।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক লেকে মে থেকে জুলাই এই তিন মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত ছিল কাপ্তাইয়ের মত্স্য ব্যবসায়ীরা। অবশেষে জেলা প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় স্বস্তি মিললেও সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদা এখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

লেকের মত্স্য শ্রমিকরা জানান, গত তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ ও লকডাউনের প্রভাবে কষ্টে কেটেছে তাদের দিন। এখন চাঁদার দাবিতে আবারও মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, চাঁদার দাবিতে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু অবহিত করেননি।

কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েদ কাউছার ও কাপ্তাই থানার ওসি নাসির উদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।