কুমিল্লায় ‘বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ)’ নামের একটি এনজিও পারভীন বেগম নামে এক হতদরিদ্র নারীকে ঋণ দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে ঋণখেলাপি মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ নারীর কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকলেও তার নামে দেখানো ঋণের বিপরীতে ভুয়া চেক সৃষ্টি করে তাকে মামলার আসামি করা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। এমন ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মামলার শিকার হয়ে দিশেহারা ঐ নারী ও তার পরিবার। মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা চা-দোকানের কর্মচারী হতদরিদ্র আবদুস সালাম ভুঁইয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম। তিনি জানান, বিজ নামের ঐ এনজিও থেকে তিনি কখনো ঋণ নেননি, অফিসও চেনেন না। তিনি কোনো ঋণ গ্রহীতার জামিনদারও হননি, কিংবা ঐ এনজিওর নিকট কোনো চেকও দেননি এবং তার কোনো ব্যাংক হিসাবও নেই। কিন্তু ২০১৮ সালের ২১ মার্চ কুমিল্লার আদালতে তার বিরুদ্ধে ৪৪ হাজার টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে একটি মামলা করে ‘বিজ’ নামের ঐ এনজিও কর্তৃপক্ষ। তার ব্যাংক হিসাব না থাকলেও মামলায় ঐ ঋণের বিপরীতে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বরের ৩০ হাজার টাকার চেক সৃষ্টি করে মামলাটি করা হয়।
হতদরিদ্র আবদুস সালাম ভুঁইয়া ও তার স্ত্রী পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত বছরের ১৯ নভেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সেদিন তিনি এনজিওর দায়ের করা মিথ্যা ঋণ ও ঋণখেলাপির মামলার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি জামিনে আসেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। এদিকে পারভীন বেগমকে ঋণখেলাপির মিথ্যা অভিযোগে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানকালে ‘বিজ’-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সংরাইশ এলাকার হতদরিদ্র মঞ্জুমা বেগম ২০১৭ সালের ৩১ মে বিজ হতে ৪৪ হাজার টাকা ঋণ নেন। তিনি ঐ ঋণ পরিশোধও করেন। মঞ্জুমা বেগমের ঐ ঋণের জামিনদার ছিলেন পারভীন বেগম।’ তবে মঞ্জুমা বেগম বলেন, ‘আমার ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের বিষয়ে পারভীন বেগম কিছুই জানেন না এবং তিনি আমার ঋণের জামিনদারও ছিলেন না।
পারভীন বেগমকে ঋণগ্রহীতা উল্লেখ করে ঋণখেলাপির মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার ও হয়রানির বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’