সবচেয়ে বড় হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফারণের ভিডিও প্রকাশ রাশিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা ফেলে হয়েছিল, তার চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফারণ ঘটিয়েছিল রাশিয়া। সম্প্রতি সেই বিস্ফারণের ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটি।

পোক্যাটমের ইউটিউব চ্যানেলে ৪০ মিনিটের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। যার শিরোনাম দেওয়া হয়- ‘৫০ মেগাটন ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা’। রশিয়ান ভাষায় শিরোনামটি লেখা হয়। তবে ভিডিওটি পোক্যাটমের ইউটিউব চ্যানেলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রাইভেট করে দেওয়া হয়।

১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর এই হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায় সোভিয়েত রাশিয়া। সে সময় কাউকে সেটা নিয়ে কিছুই জানতে দেয়নি তারা। তবে ৫৯ বছরের পুরোনো সেই ডকুমেন্টারি এবার সামনে আনলো রাশিয়ার স্টেট নিউক্লিয়ার এনার্জি করপোরেশন ‘রোসাটম’।

২০০৭ সালে ‘রোসাটম’ প্রতিষ্ঠা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে কাজ করাই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ। 

রুশ ভাষায় বোমাটির নাম ছিল ‘জার বোম্বা’। ‘টিইউ-৯৫’ বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বোমাটি। 

ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে, ৫০ মেগাটনের এই হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফারণ ঘটানো হয়েছিল উত্তর মহাসাগরে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ নোভায়া জেমলায়াতে।

২৬ ফুট লম্বা এবং ২৭ টন ওজনের সেই বোমা পরীক্ষাগার থেকে প্রথমে ট্রেনে করে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেটিকে সাবধানে বিমানে তোলা হয়।

বোমাটি বিমান থেকে প্যারাসুটে করে ফেলা হয়েছিল। এটি মাটি স্পর্শ করেনি। মাটি থেকে প্রায় চার হাজার মিটার উপরে আকাশে ফাটানো হয়। বিস্ফোরণে গোটা আকাশ আলো হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় ব্যাঙের ছাতার মতো মেঘ। কয়েকশো কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায় সেই আলোর ঝলকানি।  

তবে এত বছর পর কেন হঠাৎ সেই বিস্ফারণের ভিডিও প্রকাশ করল রাশিয়া, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আসলে রাশিয়া কি তাদের শক্তির কথা নতুন করে বিশ্বকে জানান দিতে চাইছে? সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউইয়র্ক টাইমস, জিনিউজ 

ইত্তেফাক/জেডএইচ