স্কুল কমিটির সভাপতি হতে না পেরে আবারও মারপিট,আলোচনায় নওশাদ!

বিজিবি কর্মকর্তা এবং এ্যাসিল্যান্ডকে মারপিটের প্রধান আসামী নওশাদ আলী এবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে না পেরে নতুন কমিটির লোকজনকে মারপিট করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার নিজ এলাকা হরিরামপুর গ্রামে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ নওশাদ গ্রুপের- চমৎকার আলী ও আলমঙ্গীর হোসেনকে আটক করেন।

হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্আলম খোকন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এডহক কমিটির প্রথম মিটিং ছিলো। মিটিং শেষ করে বাড়ী ফেরার সময় তাঁর পথরোধ করেন নওশাদসহ তার লোকজন। এ সময় অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানান শাহ্আলম। 

পরে সন্ধ্যায় নওশাদ ও মান্নান মেম্বারের নেত্রীত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি আলহাজ মনসুর রহমান পক্ষের কর্মী-জুলফিকার আলী,সাইদুর রহমান, বাদল, দুর্জয় ও মেঘলার উপরে অতর্কিত ভাবে হামলা করে  তাদের আহত করেন। এদের মধ্যে জুলফিকার আলীকে রামেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যান্যরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। 

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালান এবং নওশাদ গ্রুপের- চমৎকার আলী ও আলমঙ্গীর হোসেনকে আটক করেন। এ সময় সু-কৌশলে পালিয়ে যায় নওশাদ আলী। পরে আহতদের পক্ষে জুলফিকার আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগম ১৯ জনকে আসামী করে বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

হরিরামপুর স্কুল ম্যানেজিং (এডহক) কমিটির সভাপতি আলহাজ মনসুর রহমান জানান, বিগত সময়ে  ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বিজিবি কর্মকর্তা এবং এ্যাসিল্যান্ডকে মারপিটের প্রধান  আসামী ও অত্র এলাকার প্রভাবশালী নওশান আলী । কিন্তু এবার তিনি সভাপতি হতে না পারায় তার লোকজনকে মারপিট করে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেন নওশাদ। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।  

আরো পড়ুনঃ মুলাদীতে দুই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সঙ্কটে ১২ গ্রাম

প্রসঙ্গত নওশাদ আলী বাঘার প্রভাবশালী এক নেতার ভগ্নীপতি। তিনি  বিয়ের পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সিপায় পদে চাকরি নেন। এরপর দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারিয়ে এলাকায় চোরাচালান করাবার শুরু করে। এই কারবার চালাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি’র এক সুবেদারকে মারপিট করে এলাকায় আলোচিত হন। পরে চোরাচালান থেকে সরে গিয়ে এলাকায় বালি মহল পরিচালনা ও আদম ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও ঘটে নানা বিপত্তি। 

গত বছরের ১৯ জানুয়ারি তার বাড়ির সামনের পদ্মায় অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের ঘটনায় কাগজ-পত্র দেখতে চাওয়ায় বাঘা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইমরুল কায়েস সহ অপর দুই কর্মচারীকে মারপিট করে এলাকা ছাড়েন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে মানব বন্ধর কর্মসূচী পালন করেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে পুকুর দখলের ঘটনায় পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলায় একজনকে মারপিট করে আহত করাসহ আদম ব্যবসার ঘটনায়  ফরিদপুর থানায় তার নামে অর্ধ কোটি টাকা প্রতারণা মামলা হয়। 

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ্যাসিল্যান্ড পেটানোর ঘটনায় মোবাইল ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে নওশাদ আলীকে ঢাকা বিমান বন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল শুনেছি। তার বিরুদ্ধে মাঝে-মধ্যে লোকমুখে নানা অভিযোগের গল্প শুনতে পাই। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে এলাকার লোকজনকে মারপিট করার ঘটনায় তার নামে থানায় মালা হয়েছে।এ মামলায় তিনি পলাতক থাকলেও তার পক্ষের দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বাঁকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  


ইত্তেফাক/এমএএম