এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি:২০২১

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পপি পরীক্ষার পর তার বাবা মায়ের সাথে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে তারা একটি নদী দেখতে পায়, যার উত্পত্তিস্থল তিব্বতের মানস সরোবরে। নদীটি প্রাকৃতিক কারণে গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য নাম ধারণ করে। এ নদীটি পরবর্তীতে চাঁদপুরের কাছে এসে অন্য একটি নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এ নদীর মাধ্যমে ঐ এলাকার বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।

ক) জলবিদ্যুত্ কী ?                                                                                                                                                                                      খ) আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে কেন ?                                                                                                                                             গ) উদ্দীপকের পপির দেখা নদীটির গতিপথ ব্যাখ্যা কর।                                                                                   ঘ) উদ্দীপকের শেষোক্ত নদীটির সাথে ঐ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

ক) উত্তর : নদী ও জলপ্রপাতের জলের বেগ ব্যবহার করে টার্বাইন যন্ত্রের সাহায্যে যে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয় তাকে জলবিদ্যুত্ বলে।                                                                                        

খ) উত্তর : আমাদের নদীগুলো প্রবাহ হারালে দীর্ঘদিন ধরে নদীকে কেন্দ্র করে যেসব পেশার মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে তাদের জীবনে অভাব-অনটন নতুনভাবে সৃষ্টি হতে পারে। নদীর তীরে যেসব গাছপালা, বাগান বাড়ি,সবুজ বৃক্ষের সমারোহ গড়ে উঠেছে সেগুলো পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। তাতে মানুষ,মাছ,পশুপাখি ও গাছ-তরুলতার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এর জন্য নদীতে নিয়মিত খনন করা, অপ্রয়োজনীয় বাঁধ,পুল-কালর্ভাট নির্মাণ না করা,পানির প্রবাহ ঠিক রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের পপি ময়মনসিংহে বেড়াতে গিয়ে যে নদীটি দেখেছিল সেটির তিব্বতে মানস সরোবরে উত্পত্তি। পরবর্তীতে গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে অন্য একটি নাম ধারণ করে। মূলত পপির দেখা নদীটি হলো ব্রহ্মপুত্র যা পরবর্তীতে যমুনা নাম ধারণ করে। তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্পত্তি হয়েছে। আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের আগে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রক্ষ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখা নদী সৃষ্টি হয়। নতুন স্রোতধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়। এটি দক্ষিণে গোয়ালনন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত। গঙ্গার সাথে মিলিত হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। যমুনার  শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী বুড়িগঙ্গা,ধরলা,তিস্তা,করতোয়া,আত্রাই যমুনার উপনদী। গঙ্গার সঙ্গমস্থল পর্যন্ত ব্রক্ষ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ২৮৯৭কিলোমিটার এবং অববাহিকার আয়তন ৫৮০১৬০ বর্গ কিলোমিটার এর ৪৪০৩০ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত।