বর্তমানে করোনার কারণে দেশে যে অর্থনৈতিক সংকট নেমে এসেছে তাতে বহু লোক বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সব ব্যবসায়ীই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত, অনেক মানুষ কর্মহীন। এদের রক্ষা করতে হলে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করতে হবে। সাহস জোগাতে হবে যাতে প্রকল্প চালু হয় এবং মানুষ বেকার না হয়ে পড়ে। যদি আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকি এবং সঠিক সময়ে সাহসী সিদ্ধান্ত না নেই তাহলে আমাদের ভবিষ্যত্ অন্ধকার। ব্যাংকসমূহকে প্রতিটি প্রকল্পের সমস্যাদি সমাধানের লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করতে হবে।
১৯৯৮ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় দেশে দুর্যোগ নেমে এসেছিল। সারা দেশের মানুষ ভয়ে ও আতঙ্কে ছিল। খেতের ফসল, কৃষিভিত্তিক প্রকল্প, শিল্পকারখানা সব পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যা দুই-তিন মাস দীর্ঘ হওয়ায় ক্ষতি বেশি হয়েছিল। ঐ সময় আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা করে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ ও উত্পাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষকে খাদ্য ও অর্থনৈতিক দিক থেকে রক্ষা করেন। অনেকে এভাবে ঋণ বিতরণের বিরুদ্ধে ছিল, ভেবেছিল ঋণের টাকা কৃষক ও উদ্যোক্তারা খেয়ে ফেলবে। কিন্তু এ টাকা দিয়ে তারা উত্পাদন বাড়িয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছিল। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি করে দেওয়ায় বকেয়া ঋণও আদায় হয়েছিল। খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সব প্রকল্প চালু করে কর্মসংস্থান করা হয়েছিল। কৃষি উত্পাদন যেমন—ধান, আলু, গম, পেঁয়াজ, আদা, রসুন উত্পাদনের জন্য প্রতিটি কৃষককে এবং হাঁস-মুরগি, দুগ্ধ খামার ও মত্স্য চাষে উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ করতে হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত (এসএমই) খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা যেমন—চাল, আটা কল, আলুর হিমাগার, মত্স্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা, ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা ও অন্যান্য কুটিরশিল্প যাদের পূর্বের ঋণ বকেয়া আছে বা খেলাপি হবে তাদের আবেদন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ছোট ছোট কিস্তি অর্থাত্ আয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুনঃতপশিল করে প্রণোদনা হিসেবে চলতি মূলধন জোগান দিতে হবে। পুনঃতপশিলের জন্য ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক না করলে ভালো হবে। আয়ের সঙ্গে মিল রেখে বাত্সরিক কিস্তি করলে ব্যাংক তার পাওনা ধীরে ধীরে পেয়ে যাবে এবং ননপারফর্মিং এসেট পারফর্মিং এসেটে পরিণত হবে। এতে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ই লাভবান হবে।
সময় ক্ষেপণ না করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে শুধু লাভের দিক না দেখে দেশের স্বার্থে খরচ কমিয়ে কর্মহীন মানুষকে কাজে লাগালে সবাই লাভবান হবে। লেখক : সাবেক ব্যাংকার