করোনা বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বকে ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষ করে মানুষের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে এক মহাদুর্যোগের আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিধর বেশ কয়েকটি দেশে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কর্মী চাকরি হারিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশসমূহ তাদের দেশে কর্মরত বাংলাদেশিসহ প্রবাসী কর্মীদের ব্যাপক হারে ছাঁটাই করছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তাদের কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। আবার নিম্ন আয়ের ১৬-১৭ শতাংশ লোক কর্মহীন হয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে—এমন তথ্যও কোনো কোনো সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়বে কমপক্ষে দেড় থেকে দু কোটি মানুষ। জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগাম সর্তকবাণী করে বলেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে কমপক্ষে ১০০ কোটি মানুষ কর্মহীন হবে।
আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে ভালো কাজের সুযোগ পেলে ৯৯ শতাংশ অভিবাসী দেশেই থাকতে চায়। যেখানে বাংলাদেশে চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে, সেখানে ভালো কাজের সুযোগ কোথায়। ভালো কাজের জন্য প্রয়োজন হবে যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত অথবা শুধু অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির জন্য কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধ হবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রতি বছর এদেশে ২২ লাখেরও বেশি তরুণ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হন। কিন্তু স্থানীয় শ্রমবাজার এই কর্মসংস্থান প্রার্থীদের জায়গা দিতে সক্ষম নয়।
দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বলতে সরকারি চাকরি আর বেসরকারি চাকরি। কাজেই আইএমওর প্রতিবেদনে উল্লিখিত কাজের ভালো সুযোগ পেলে দেশে থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা কতটুকু পূরণ হবে তা ভাবার বিষয়। তবে করোনা মহামারিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হলে কারো ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ উদ্যোগে ছোট ছোট মাছের খামার, হাস-মুরগির খামার, কুটিরশিল্প গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হলে অন্যের কাছে গিয়ে কাজের জন্য ধরনা দিতে হবে না, বরং নিজের পক্ষেই অন্যের জন্য কর্মস্থান সৃৃষ্টি করাও সম্ভব হবে। এজন্য শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা আর মনোবল। অবশ্য সম্ভাবনাময় যুবগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ এভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই কমংস্থানের ক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কৃষি, পোল্ট্রি, মত্স্যসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিভিন্ন শিল্পই হতে পারে বড় শক্তি। এই ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আশা করা যায়।
ঢাকা