রাবি অধ্যাপক কাজী জাহিদ জামিনে মুক্ত

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার নুরুল আমিন জানান, গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের যৌথ বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমান রাতে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, আমি রূপক অর্থে যে কথাগুলো বলেছিলাম, কারাগারে গিয়ে মনে হয়েছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আমি মিথ্যা কিছু বলিনি। এর মধ্যে কারাগার থেকে জেনেছি, রিজেন্ট, জেকেজিসহ অনেকের অপকর্ম বের হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা কথা না বললে কে বলবে ? আমার কথায় হয়তো অনেকে কষ্ট পেয়েছেন কিন্তু কথা তো বলতেই হবে। দেশে যা ঘটছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলার কারণে কারাগারেও অনেক মানুষ আমাকে সম্মান করেছেন। কারাগারে সবচেয়ে চিন্তিত ছিলাম আমার পরিবার নিয়ে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন স্থানীয় আইনজীবী তাপস কুমার মতিহার থানায় শিক্ষক জাহিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ঐ রাতেই পুলিশ জাহিদুর রহমানকে শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে গ্রেফতার করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদুর রহমান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদে ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে লেখার পর গত ১৬ জুন জাহিদুর রহমানকে জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া গত ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কাজী জাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে গ্রেফতারের পর থেকে তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন অধিকারকর্মীরা।