পাঁচ জেলার ‘জমিদারের’ জমিদারি খতম!

বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার সকল জমি নিজের জমিদারির অধীন এবং এই পাঁচ জেলার মালিকানা দাবি করা স্বঘোষিত জমিদার আ. সামাদ হাওলাদারের স্থাপন করা সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের সাইনবোর্ড অপসারণ ও অফিস গত বুধবার দুপুরে তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। মোরেলগঞ্জ উপজেলার পিসি বারইখালী গ্রামের মৃত আকবর আলী হাওলাদারের পুত্র আ. সামাদ হাওলাদারের দাবি—১৯২৮ সালের প্রাদেশিক সরকারের ৮ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী এস.এ (চলমান) ও বি.আর.এস (সংশোধনী) প্রাদেশিক সরকারের খাস রেকর্ড অনুযায়ী কবলা সূত্রে তিনি সুন্দরবন লর্ড চিরস্থায়ী প্রজাস্বত্ব এস্টেটের মালিক এবং এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। এই সূত্রে তিনি পিসি বারইখালি গ্রামের নিজ বাড়িতে জমিদারির সদর দপ্তর স্থাপন করে কয়েক বছর ধরে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং তার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সকালে শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এর আগে এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নতুন করে জমি বন্দোবস্ত নেওয়া, নতুন খতিয়ান খুলে খাজনা দিয়ে দাখিলা ও জমির পর্চা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। 

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, বাংলাদেশে এখন আর কোনো জমিদারি প্রথা নেই। সকল জমির মালিক সরকার। তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের নামে কার্যক্রম চালানো রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। খবর পেয়ে তাদের অফিস বন্ধ করে সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।