ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলাল ফের তিন দিনের রিমান্ডে

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ আসামি পক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি খায়রুল আলম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে গতকাল আদালতে তোলা হয় প্রধান তিন আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলালকে। গত ২৪ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশের দ্বিতীয় দফায় চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করছিল একই আদালত। তার আগে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড শেষ হয় ঐদিন। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে পুনঃরায় রিমান্ড আবেদন করা হয়। 

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। এসব মামলায় সিনহার সফরসঙ্গী শিপ্রা ও সিফাত গ্রেফতার                 হয়ে কারান্তরিণ হন।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুলকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক রয়েছেন। তাদের নামে কোনো পুলিশ সদস্য কক্সবাজারে কর্মরত নেই বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। কিন্তু এ দুই আসামির পরিচয় শনাক্তে জেলা পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে র্যাব।

৫ আগস্টের মামলায় ওসি প্রদীপ-লিয়াকত-নন্দসহ এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এরপরই তারা বরখাস্ত হন। সাত দিন রিমান্ডে থাকাকালীন এপিবিএনের তিন সদস্য পৃথকভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।