নাখালপাড়ায় এনজিও অফিসে স্বামী-স্ত্রীর লাশ

রাজধানীর নাখালপাড়ার আশা উন্নয়ন সংস্থার অফিসের ভেতর থেকে গতকাল সকালে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন—আসমত আলী (৪৫) ও তার স্ত্রী ফারজানা (৩৬)। আসমত আলী কাওরান বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। ফারজানা বুয়ার চাকরি করতেন একটি এনজিওতে। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। আসমত আলীর বাড়ি নরসিংদীর রায়পুর থানার শ্রীনগরে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মাহমুদ খান বলেন, ৮৫ পশ্চিম নাখালপাড়া ঠিকানায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার আঞ্চলিক অফিসের ভেতর আমরা দুটি লাশ পাই। আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। দম্পতির সন্তানরা তাদের বাবা-মাকে খুঁজতে ঐ অফিস কক্ষে যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখে, কক্ষের ভেতর থেকে ছিটকানি লাগানো আর ভেতরে মা-বাবার লাশ। এমন অবস্থায় তারা ৯৯৯-এ ফোন করে।

আমরা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, তখন দেখি, আসমত আলীর লাশ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছিল। আর তার স্ত্রীর লাশ পড়ে ছিল মেঝেতে। পরে ছিটকানি লাগানো কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমরা লাশ উদ্ধার করি।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, ঘটনাস্থলে ঐ দম্পতির ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানিয়েছে, বাবা-মার মধ্যে অনেক দিন থেকে মনোমালিন্য চলছিল। ফারজানা ঐ এনজিওর লোকাল অফিসের ভেতরেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার ঐ অফিসে আসমত আলী ও তার তিন ছেলেমেয়ে ঝামেলা মেটাতে যান। কিন্তু রাতে একপর্যায়ে আসমত আলী তার ছেলেমেয়েদের চলে যেতে বলেন। সে সময় আসমত আলী তার সন্তানদের জানান, তারা (মা-বাবা) একে অপরের সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা মেটাবেন। তারপর সেখান থেকে ঐ দম্পতির সন্তানরা চলে যায়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কোনো সমস্যার জেরে আসমত আলী প্রথমে তার স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। তারপর নিজেও ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেছে, ফারজানার মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে আরো বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন কাজ করছে।

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন জানান, নাখালপাড়ায় ভাড়া থাকতেন আসমত ও ফারজানা দম্পতি। বাসা লাগোয়া একটি এনজিও অফিসে বুয়ার কাজ করতেন ফারজানা। দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি জানান, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক?্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।