চাচার দায়ের করা অপহরণ মামলায় কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে চাচার হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ভাতিজা। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মইয়াদিয়া এলাকায় শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হাত কাটার পাশাপাশি চাচা আলী হোসেন মুন্সিকে উপর্যুপরি কোপায় ভাতিজা আলমগীর।
আহত আলী হোসেন মুন্সির (৫০) বাড়ি মইয়াদিয়া গ্রামেই। তিনি সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। হামলাকারী আলমগীর আহত আলী হোসেনের বড় ভাই আশরাফ মিয়ার ছেলে। সে পেশায় এক জন টমটমচালক।
গুরুতর আহত আলী হোসেনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতের এক নিকটাত্মীয় জানান, আলী হোসেনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে গত ১২ জুন অপহূত হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৬ জুন পেকুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তার ভাতিজা আলমগীর ঐ মামলার ২ নম্বর আসামি। দেড় মাস আগে আলমগীরকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেয়। কারাভোগ করে সপ্তাহখানেক আগে তিনি জামিনে বের হয়েছেন। তারপর থেকেই মামলার বাদী আপন চাচাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিল আলমগীর।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে আলী হোসেন মইয়াদিয়া স্টেশন থেকে একটি মিশুকে করে পেকুয়া বাজারের দিকে আসছিলেন। অল্প কিছুদূর গাড়িটি আসার পর আগে থেকে ওঁত্ পেতে থাকা আলমগীর গাড়িতে বসা আলী হোসেনকে কিরিচের কোপ দেয়। কোপটি আলী হোসেন হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে কিরিচের কোপে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর আলী হোসেন পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারী আলমগীর তাকে ধাওয়া দিয়ে শরীরে আরো সাত-আটটি কোপ দেয়। আহত আলী হোসেনকে উদ্ধার করতে গিয়ে কামাল হোসেন নামে অন্য এক ব্যক্তিও গুরুতর আহত হন। এ সময় আলী হোসেনের বিচ্ছিন্ন কবজি সড়কের পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে বীরদর্পে চলে যায় আলমগীর। পরে স্থানীয়রা এসে আহত দুই জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পেকুয়া থানার ওসি মো. কামরুল আজম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আলী হোসেনের বিচ্ছিন্ন কবজি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা চলছে।