প্রমত্তা মেঘনা, মাসকাটা, কালাবদর, ইলিশা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত বরিশালের দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। সংলগ্ন হিজলা উপজেলায়ও নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। এখনো ভাঙন হুমকিতে রয়েছে নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলা। সহায়সম্বল রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। দুই উপজেলার ভাঙন রোধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরিশাল-৫ (সদর) আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। এই প্রকল্প পাশ হলেই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি গতকাল শুক্রবার নগরসংলগ্ন জাগুয়া এলাকার ভাঙন পরিদর্শনকালে জানান, কীর্তনখোলার সঙ্গে সংযোগ পাঁচটি খাল পুনঃখনন এবং নদী তীরে ফ্ল্যাট ওয়াল নির্মাণে প্রকল্প নিতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে বন্যা বা জোয়ারের পানি শহরে প্রবেশ করতে না পারে।
নদীভাঙনসহ নানা প্রকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেই বসবাস চারিদিকে নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জ এবং চরবেষ্টিত হিজলা উপজেলার মানুষের। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে—গত এক মাসে এ দুই উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনসহ বাড়িঘর, স্থাপনা, রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। সর্বশেষ বুধবার বিকেলে নির্মাণের তিন বছরের মাথায় নদীগর্ভে বিলীন হয় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগী চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। কালাবদর, তেঁতুলিয়া, গণেশপুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়সের বাসিন্দারা।
সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা এবং জোয়ারের পানির প্রভাবে মেহেন্দিগঞ্জের চর এককরিয়া, উত্তরচর, আলীগঞ্জ, রুকুন্দি, স্টিমারঘাট, জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর, শ্রীপুর, আলীমাবাদ ও দড়িরচর খাজুরিয়া এবং মেঘনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে হিজলা উপজেলার বদরটুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টার। হিজলা উপজেলার বদরটুনি, আলীগঞ্জ, আশিঘর, হিজলা, মধ্যবাউশিয়া, দঃ বাউশিয়া, দঃপঃ বাউশিয়া, উত্তর বাউশিয়া এলাকা দিন দিন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এসব এলাকার বেশকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। হিজলা উপজেলা প্রশাসনিক ভবন লাগোয়া বাউশিয়া গ্রামের মাত্র এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে পাঁটি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় মেঘনা নদীতে তলিয়ে যেতে পারে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, টেকের বাজারসহ আশপাশের ১০টি গ্রাম মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের।