চট্টগ্রামের হাটবাজারে কিছু কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মাছ-মাংস, তরিতরকারি ও পেঁয়াজ-আদার মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তারা বাজার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের হঠাত্ করে মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে বিক্রেতারা বেশ কিছু দিন ধরে অভিনব অজুহাত খাড়া করছেন। দুই-এক দিন প্রবল বৃষ্টিপাত হলে, কিংবা সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ায় সতর্ক সংকেত উঠলেই ‘সরবরাহ নেই’ বলে নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ-তিন গুণ করে বসে থাকেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তার ওপর বাজার সমিতির টোল এবং কোথাও কোথাও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দেওয়ার কথা বলে সেই ক্ষতি পণ্যের মূল্যের ওপর চড়িয়ে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের বাজারে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তত্পরতা বৃদ্ধি পেলে দিনকয়েক পণ্যের মূল্য ঠিক রাখে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি আবার যেই কে সেই।
ভোক্তাদের অভিযোগ বর্তমানে বাজারে বৃষ্টির দোহাই দিয়ে শাকসবজি, তরিতরকারির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা। মাছ-মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। দেখা গেছে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বাজারভেদে হেরফের হয়। তবে দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যায়। নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ২ নম্বর গেট কর্ণফুলী সুপার মার্কেট সর্বত্রই খুচরা ব্যবসায়ীদের একই আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রামের বাজারে গরুর হাড়যুক্ত মাংস এখন ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার নিচে মেলে না। হাড়ছাড়া গরুর মাংসের প্রতি কেজির দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। খাসির মাংসের দাম বিক্রেতারা হাঁকছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা। দরদাম করলে মিলছে ৭৫০ টাকায়। মুরগির খুচরা বাজারে গত কয়েক দিন ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকায়, সোনালি ২৩০ টাকায় এবং লেয়ার ২৭০ টাকায়।
শাকসবজি, তরিতরকারির বাজার ঘুরে দেখা গেছে সেখানে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায়, টম্যাটো ৯০/১০০ টাকায়, ঝিঙা-ঢ্যাঁড়শ ৪৫/৫০ টাকায়, শসা ৫০ টাকায়, পটোল ৬০/৬৫ টাকায়, আলু ৩২/৩৬ টাকায়। লালশাক, কলমিশাক, পাটশাক, হেলেঞ্চা, পুঁইশাক ইত্যাদির দামও প্রতি আঁটিতে তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতারা। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ১৮০/২০০ টাকা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম হঠাত্ করে পাঁচ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ টাকায়। বাজারে রসুনের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি রসুন ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে বিক্রি করছে ৮০ টাকায়।
এখনো বাজারে প্রতি কেজি ১ হাজার/১ হাজার ২০০ টাকার নিচে ভালো ইলিশ মাছ মিলছে না। ৪০০/৬০০ টাকায় যেসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর সাইজ জাটকার চেয়ে ইঞ্চি দেড়েক বড়। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, রুই ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, কাতল মাছ ২০০/২৫০ টাকা প্রতি কেজি। সামুদ্রিক কোরাল মাছ মাঝারি সাইজ প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৬০০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ক্যাব চট্টগ্রামের নেতা এস এম নাজের হোসাইন, ইকবাল বাহার ছাবেরি ও জেসমিন সুলতানা পারু এক বিবৃতিতে বাজারে কিছু কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।