নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে তৎপর শরীয়তপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড

শরীয়তপুর জেলা পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় জেলাটি নদী ভাঙ্গনপ্রবন। চলতি বর্ষা মৌসুমে ঘূর্ণি ঝড় আম্পান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৬৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানির চাপ ও ঘূর্ণি-প্রবাহের কারণে সব উপজেলায় কম- বেশি নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। 

শরীয়তপুর জেলায় জাজিরা উপজেলায় মাঝির ঘাট জিরো পয়েন্ট, বড়কান্দি, কুন্ডের চর নড়িয়া উপজেলায় পৌরসভার ঢালিপাড়া,শেরআলী মাতবর কান্দি,ঘরিষার ইউনিয়নের সুরেশ্বর দরবার শরীফ সংলগ্ন এলাকা, বাংলাবাজার, চরআত্রা-নওয়াপাড়া এলাকা, ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া, গাজীপুর গোসাইরহাট উপজেলার ঠান্ডার বাজার, চর জালালপুর, কুচাইপট্টি, সাইক্যা, হাটুরিয়া, মশুরগাঁও,মূলগাঁও ডামুড্যা উপজেলার বিশাকুড়ি, ধানহাটা সদর উপজেলার কোটাপাড়া, চর স্বর্ণঘোষ, উপরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮,০০০ কি.মি. এলাকায় এ বছর নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এদিকে, গত ২৭ আগস্ট সুরেশ্বর দরবার শরীফে নতুন করে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পবিত্র সুরেশ্বর দরবার শরীফ রক্ষার্থে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী, মাননীয় সচিবসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে দিক নির্দেশনা মোতাবেক ভাঙ্গন থেকে সুরেশ্বর দরবার শরীফ রক্ষার জন্য ঐ এলাকায় ভাঙ্গনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত দিন রাত অব্যাহতভাবে জিও ব্যাগ, জিও টিউব ডাম্পিং-এর মাধ্যমে জরুরী আপদকালীন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুরেশ্বর দরবার শরীফ সংলগ্ন এলাকায় নদীর তীরের খুব কাছেই নদীর তলদেশ স্কাউরিং হয়ে ৫৩৮ মি. দৈর্ঘ্য, ২১৬ মি. প্রস্থ ও ৬০ মি. গভীরতা বিশিষ্ট একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে এ এলাকা রক্ষার্থে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার জিও ব্যাগ, ৮৫০ টি জিও টিউব ডাম্পিং করেছি। যেহেতু এখন নদীতে পানির লেভেল কমে যাচ্ছে ফলে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমান জিওব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করে সুরেশ্বর দরবার শরীফ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমদের কাজ অব্যাহত থাকবে।


ইত্তেফাক/এমএএম