রাইড শেয়ারিং সেবা চালুর জোরা দাবি বারসা’র

২৬ আগস্ট বিআরটিএ কর্তৃক রাইড শেয়ারিং বন্ধের নিষেধাজ্ঞার ৫ মাস পূর্ণ হলো। রাইড শেয়ারিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্প্রতি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রাইড শেয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (বারসা)।

বারসা’র কো-কনভেনর মালিহা এম কাদির ও হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়েছে, দেশে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি ক্রম উন্নতির ফলে বর্তমানে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত মোটরযান কিংবা মোটরসাইকেল চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক রাইড শেয়ারিং অ্যাপের আওতায় মোটরসাইকেল চলাচলের উপর গত ২৬ মার্চ, ২০২০ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবত্ রয়েছে। শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের উপর উক্ত নিষেধাজ্ঞা রাইড শেয়ারিং খাত সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য মারাত্মক নেতিবাচক।

বিআরটিএ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনার ফলে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চলাচলে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে মোটরসাইকেল রাস্তায় ঠিকই চলাচল করছে এবং এর দরুন মোটরসাইকেলের মাধ্যমে অ্যাপসের বাইরে চুক্তিভিত্তিক অফলাইন ট্রিপ বাড়ছে যা কিনা চালক ও যাত্রী, উভয়ের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করোনাকালীন এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়ক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস সবচেয়ে নিরাপদ গণপরিবহন সেবা প্রদানে সক্ষম।  করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রমন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্তে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি ও নির্দেশিকায় মোটরসাইকেল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা অনিরাপদ বলে চিহ্নিত বা বর্ণনা করা হয়নি। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে বিআরটিএ’র নির্দেশনা মোতাবেক মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস ও এম্বুলেন্স ইত্যাদির মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সেবা অব্যাহত রেখে নিরাপদ ও স্বাস্থসম্মত রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রদানে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিসমূহ প্রভূত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। উক্ত অভিজ্ঞতা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে নিরাপদ রাইড শেয়ারিং সেবা প্রদানে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

২৬ আগস্ট, ২০২০ রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সর্ববৃহত্, সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যম মোটরসাইকেলের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ৫ মাস পূর্ণ হলো। রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্মসমুহে যুক্ত চালকবৃন্দ, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে রাইডশেয়ারিংকারী চালকেরা ও তাদের পরিবার বর্তমানে রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকায় কাজের অভাবে বেকার হয়ে বৈধ আয়-রোজগার থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানিসমূহ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত স্ট্যার্ন্ডাড অপারেটিং প্রসিউডিওর (এসওপি) অনুসরনপূর্বক এই সেবায় নিযুক্ত চালকবৃন্দ ও তাদের পরিবারের আর্থিক দুরাবস্থা তথা মানবিক দিক বিবেচনায় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালুকরণের অনুমতি অবিলম্বে প্রদানের জন্য বিআরটিএ’র নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।