বিয়ানীবাজারে ৪০০ জিডি
আব্দুল খালিক, বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা
বিয়ানীবাজারে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর) অপরাধ। হুমকি, যৌন হয়রানি, অশ্লীল কথোপকথন, মানসিক হয়রানি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জগতে সাইবার অপরাধের শঙ্কা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা।
দেশের অন্যান্য স্থানের মতোই উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী এখন উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা। এদের সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী। একসময়ে তারা কেবল কথা বলার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। কিন্তু মোবাইলের ব্যবহার এখন আর শুধু কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইন্টারনেট সংযোগ, উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরা এবং নতুন নতুন অ্যাপস নিয়ে মোবাইল ফোন এখন রীতিমতো ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটারে পরিণত হয়েছে। আধুনিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উঠতি বয়সিরা বিভিন্ন পর্নোসাইটে ঢুকে মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। তিনি বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে তারা ইন্টারনেটে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও ভয়ানক দৃশ্য দেখে। এর প্রভাব তার মানসিক জগত্ হঠাত্ করেই বদলে যায়। শুরু হয় অস্বাভাবিক আচরণ। কেউ কেউ ‘আননোন’ নাম্বারে কল করতে শুরু করে। অপর প্রান্তে নারী কণ্ঠ পেলেই শুরু করে অশ্লীল কথোপকথন। মানসিক হয়রানির অংশ হিসেবে সময়ে-অসময়ে দেয় মিসড কল, পাঠাতে থাকে মেসেজ। এসব কারণে তরুণী বা নারীদের পক্ষে এখন মোবাইল ব্যবহার বিড়ম্বনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, পূর্ববিরোধের কারণে একজন অন্যজনকে ফাঁসাতে মোবাইল ফোনে নামে-বেনামে মিথ্যা হুমকিও প্রদান করে। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিয়ানীবাজার থানায় মোবাইল ফোনে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মহিলাদের মানসিক হয়রানিজনিত বিষয় উল্লেখ করে প্রায় চার শতাধিক সাধারণ ডায়ারি করা হয়েছে। সবগুলো জিডি বেশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থার কথা জানিয়ে ওসি অবণী শংকর কর জানান, আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করি। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক ডজন যুবককে মোবাইল ফোনসংক্রান্ত নানা অভিযোগের জের ধরে আটক করে থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মুচলেকার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিরক্ত করা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাধিক বার ছাত্রীদের ফোন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এসব বিষয়ে পূর্ব মুুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ আহমদ বলেন, পারিবারিক সতর্কতা প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ করতে পারে। তাছাড়া সরকারি বিধিমালাও অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।