নতুন মালটিসেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন জরুরি
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসী চরম দুঃসময় পার করছেন। কাজকর্ম নেই। ব্যবসায়-বাণিজ্য ঢিমেতেতালে চলছে। একমাত্র গ্রোসারি সপগুলোর অবস্থা মোটামুটি। বাকিরা দুশ্চিন্তায়। চাকরি হারিয়ে কর্মহীন বহু মানুষ। অন্যদিকে বিদেশ থেকেও টাকা আসছে না সিলেটে আগের মতো। হিমশিম খাচ্ছেন প্রবাসীদের পোষ্যরা। বিশেষ করে সিলেট নগরীর বড় বড় ফ্যাশন শপগুলোর অবস্থা খারাপ। দোকান ভাড়া, বিদ্যুত্ বিল, স্টাফ খরচ ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন নগরীর জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া, নয়াসড়ক জেল রোডসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন নামীদামি শপিং মলগুলো ঘুরে এই চিত্র চোখে পড়ে। পর্যটনসমৃদ্ধ নগরীর হোটেল ও রেস্ট হাউজগুলো গত ১ আগস্ট থেকে খোলা হলেও এখনো সেইভাবে অতিথি উঠছেন না। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে—এ নিয়েও উদ্বিগ্ন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সিলেটের পর্যটন স্পট খোলার বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে এ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কষ্টের জীবন কাটাচ্ছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন সাথী জানান, করোনার সময় অনেক বেসরকারি স্কুলকলেজের শিক্ষকদের চাকরি চলে গেছে। সিলেটে পরিচিত অনেক প্রতিষ্ঠানে মানুষ চাকরিহারা হয়েছেন। সেই সব মানুষের সংসারের অবস্থা এখন ভালো নেই। বন্দরবাজারের কয়েক জন শ্রমিক জানালেন, করোনা আসার পর থেকে তারা অসহায়। এই নগরীতে বহু দালানকোঠার কাজ থেমে আছে। রাজমিস্ত্রিরাও বসে দিন কাটাচ্ছেন। রিকশাচালক মাসুক মিয়া জানান, আগের মতো ট্রিপ হয় না। বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই শ্রমিকদের ডাকছেন না। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার গরিব অসহায় মানুষের জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করলেও অধিকাংশ স্থানে সেগুলো লুটপাট হয়ে যায়। এদিকে সিলেটের ব্যবসায়-বাণিজ্য চাঙা করার উদ্দেশ্যে সিলেট চেম্বার প্রথম থেকেই সিলেটের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দানের বিষয়ে দাবি জানায়। সিলেট চেম্বার মনে করে, খুব শিগিগরই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট খুলে দেওয়া হবে। আর তা হলে সিলেট থেকে বহু পণ্য যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা যেতে পারে।
নতুন মালটিসেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন জরুরি :সিলেট চেম্বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সিলেটে ১০০ একর জমি নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন ‘মালটি সেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ স্থাপন এখন সময়ের দাবি। তারা বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী। তাছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভৌগোলিক সুবিধার কারণে সিলেট থেকে এসব রাজ্যে পণ্য রপ্তানি অত্যন্ত সুবিধাজনক। তাই সিলেটে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখান থেকে পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। সিলেটে প্রস্তাবিত মালটি সেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন এখন জরুরি বলে মনে করেন চেম্বার সভাপিতি আবু তাহের মো. শোয়েবও। সিলেট চেম্বার প্রস্তাবিত নতুন ‘মালটি সেক্টরাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ স্থাপনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে বলে সূত্র জানায়।