স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই ঝুঁকিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার জন্য নির্দেশনা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে এখন আর তার বালাই নেই। এর জন্য প্রশাসনের ঢিলেঢালা অবস্থানকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘স্বাস্থ্যবিধি’ না মানার ফলে সংক্রামক ব্যাধিটির বিস্তারের ঝুঁকিও  বাড়ছে  নতুন করে। করোনার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত জেলা নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণের হার ক্রমশ নিয়ন্ত্রণে এলেও গত কয়েকদিনে হঠাত্ করেই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচলের কারণে হঠাত্ করে নারায়ণগঞ্জে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করছেন জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হন। যার দুই জনই নারায়ণগঞ্জের। এ জেলায় ৩০ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক নারীর মৃত্যু হয়। গত ৭ এপ্রিল করোনা সংক্রমণের জন্য নারায়ণগঞ্জকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করে সরকার। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিত্সক, এক জন স্টাফ নার্স, জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামসহ ১৬ চিকিত্সক, চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ছয় হাজার ৩৩৬ জন। এমন অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব কিংবা অন্যান্য  স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অধিকাংশ মানুষ। শহরে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক ও তাদের সহকারীদের অধিকাংশেরই নেই মাস্ক।

এদিকে সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে দেখা যায়, সচেতনতা সৃষ্টি ও করোনা সংক্রমণ রোধে মার্কেটগুলোর সামনে প্রথমদিকে  হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক ট্যানেল, জীবাণুনাশক স্প্রে করা হলেও বর্তমানে তার কিছুই নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘করোনা শেষ হয়ে যায়নি। এখনো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এ থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতনতা ও শৃঙ্খলায় ফিরে যেতে হবে। অন্যথায় আমাদের ভবিষ্যতে আরো কোনো বড় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’ নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘মানুষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তবে এখন অন্তত মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এটাও যদি মেনে না চলে তাহলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। অন্যথায় কোনোভাবেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না। সবাইকে সচেতন হতেই হবে।’