রূপপুর পারমাণবিকের ভারী যন্ত্রপাতি গ্রহণে ঈশ্বরদীতে নির্মিত নৌবন্দর চালু

রাশিয়া হতে আগত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম গ্রহণে ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে নবনির্মিত নৌ-বন্দর চালু হয়েছে। পরমাণু কেন্দ্র নির্মাণ ও এটি চালু করার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং জ্বালানি তেল এই বন্দরের মাধ্যমে পৌঁছাবে বলে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানিয়েছেন।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সহসভাপতি ও পরিচালক এস জি লাসতোচকিন জানান, চলতি বছরেই এই বন্দর দিয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অংশ যেমন, ভিভিইআর-১২০০ চুল্লিপাত্র, চারটি স্টিম জেনারেটর ও বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ওঠানো-নামানোর জন্য পোলার ক্রেন সরবরাহ করা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য যন্ত্র-সরঞ্জামবাহী কার্গো সমুদ্রপথে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও নভোরোসিয়েস্ক থেকে মংলা বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে নদীপথে পদ্মার নবনির্মিত নৌবন্দরে নেওয়া হবে। নৌবন্দর থেকে নেওয়া হবে পরমাণু কেন্দ্রস্থলে। বছরের বিভিন্ন মৌসুমে নদীতে পানির গভীরতায় ১০ মিটারের পার্থক্য ধরে বন্দরটি নির্মিত হয়েছে। এই গভীরতায় বছরের সব সময় সেখানে কাজ চলবে। তবে বর্ষা মৌসুমে বন্দরে বড় আকারের জাহাজও ভেড়ানো যাবে। বর্তমানে বন্দরটিতে দুটি ক্রেন রয়েছে যেগুলো ৬৩ টন ধারণক্ষমতার। ৩০৮ টন ধারণক্ষমতার আরো দুটি ভারী ক্রেন যুক্ত করা হবে বন্দরটিতে।

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘মেগা প্রকল্পের’ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ৩০ শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বিদেশি জনবল আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর।