অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে সময়টা যাচ্ছে ----------ড. কামাল

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একটা অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে সময়টা যাচ্ছে। এর মোকাবিলা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। এদেশের জনগণ কখনো নিরাশ হয় না। পরিস্থিতি যত ভয়াবহই হোক, এর থেকে মুক্তি পেতে একযোগে কাজ করতে হবে। গণফোরামের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। ভোট দিলাম একজনকে সে হয়ে গেল রাজা, আর যারা ভোট দিল তারা হয়ে গেল প্রজা। এটা হলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এটা ভাঙতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে ভয় পাবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। এই ধরনের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। জনগণকে সরকার ভয় করবে, এটা হতে হবে। মানুষের মধ্যে রাজনীতি এবং সরকারে যারা আছে তাদের প্রতি বিদ্বেষ, অবিশ্বাস আছে। এটা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা লাগে।

রেজা কিবরিয়া বলেন, মানুষের আস্থা অর্জন করাটা খুব কঠিন। তবে আস্থা হারানোটা খুব কঠিন না। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার রক্ষা করা। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া বলেন, করোনার আগে দেশের ২০ ভাগ মানুষ গরিবের কাতারে ছিল। এখন এর সঙ্গে আরো ২২ ভাগ যুক্ত হয়েছে। এই ৪২ ভাগ মানুষের সঞ্চয় একেবারেই  শেষ। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো তাদের ক্রয়ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে গরিব মানুষের হাতে টাকা দেওয়া, সহযোগিতা করা। যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া হয়, কলম্বিয়াতেও এমনটি হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি ঠেকাতে কাজ করছে, তবে তাদের প্রশাসনিক দুর্বলতায় পুরোটা করতে পারছে না।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট-২ আসনের এমপি ও গণফোরামের নেতা মোকাব্বির খান বলেন, বৈষম্য আগেও ছিল, এখনো আছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে এই বৈষম্য রয়েছে। দুর্নীতি এই দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। বৈষম্য ও দুর্নীতি এই রাষ্ট্রকে এগুতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষের কাছে এই সরকারের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।  কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ এই সরকারকে সমর্থন করে। আর বিরোধী দলও ব্যর্থ। তাদের ওপরও মানুষের আস্থা নেই। ড. কামালের নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে হবে। একমাত্র জাতীয় ঐক্যই পারে জনগণের সত্যিকার স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে।