করোনাকালে নিজ কর্মস্থলে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ নারী ছয় থেকে ১০ বার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। দেখা গেছে, কর্মস্থলে কোনো না কোনোভাবে শতভাগ নারীই যৌন হয়রানির শিকার হন। তাদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৪৮ শতাংশ নারী দুই থেকে তিন বার এবং ২৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ নারী চার থেকে পাঁচ বার এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ নারী এক বার করে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
গতকাল শনিবার সকালে ‘বাংলাদেশে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি, বিশেষ করে করোনা মহামারিকালীন সময়ে আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মজীবী নারীদের যৌন হয়রানি’ বিষয়ে জরিপের ফলাফল ওয়েবিনারে প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সহায়তায় ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল’ যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, নারীর প্রতি যৌন হয়রানি সারা বিশ্বে একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আপনারা এখানে যে সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেছেন এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। আমরা একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, এই বছরের মধ্যে আইনটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারব। তবে শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।
সংসদীয় পার্লামেন্টিরিয়ান কর্কাস অন চাইল্ড রাইটস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সামসুল হক টুকু বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটা বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেখানে জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের ওপর এ রকম অত্যাচার চলতে থাকলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যৌন হয়রানি হলো একটি খারাপ আচরণ। পৃথিবীর সব সমাজে সব স্তরের মানুষের মধ্যে এটি বিদ্যমান। তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এর ব্যাপকতা বেশি। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মনোভাবই এর মূল কারণ। তাই মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইক্যুয়ালিটি ও রাইটস অ্যাকটিভিস্ট এবং সোস্যাল অ্যানালিস্ট শিফা হাফিজা বলেন, নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ নারীদের মানুষ হিসেবে গণ্য না করা। নারীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছিল সেটাকে আইন হিসেবে মানা উচিত ছিল, সেটাও আমরা করিনি। আমি মনে করি, যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়দায়িত্ব পালন করছেন তাদের নির্দেশনাটি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য একটা কমিশন হওয়া উচিত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধ করতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া নির্যাতিতা নারীদের জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পোর্টফলিও ম্যানেজার, আফরোজ মহল, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আক্তার ডলি প্রমুখ।