মেয়ে হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেওয়ালে পোস্টার সাঁটছেন এক অসহায় মা। এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, নিখাদ বাস্তবতা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গেটের সামনে এ দৃশ্য নজরে পড়ে। অসহায় এ মায়ের নাম মরিয়ম বেওয়া (৪৮)। বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছোট সাতাইল বাতাইল গ্রামে।
মরিয়মের অভিযোগ, তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে প্রিয়াকে পৌরসভার বোয়ালিয়া নয়াপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের বিবাহিত ছেলে মোমিন মিয়া (৩৩) স্কুলে যাওয়া-আসার সময় বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিত। এক পর্যায়ে মোমিন মিয়া প্রিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে সে বিবাহিত হওয়ায় তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। এতে মোমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তার কারণে প্রিয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় মোমিন দলবল নিয়ে এসে বাড়ি থেকে প্রিয়াকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং প্রিয়াকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন করে। এরই এক পর্যায়ে প্রিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে মোমিন মিয়া গত ৬ জুলাই তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন ৭ জুলাই প্রিয়া মারা যায়।
এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানাপুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়ে প্রিয়ার মা মরিয়ম বেওয়া গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ফৈযী আল ফারাহ খানের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল মামলার শুনানি শেষে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মামলা রেকর্ডের পর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মোমিনের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই প্রিয়ার মা এখন মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে নিজেই বিভিন্ন অফিস-আদালতের দেওয়ালে পোস্টারিং করছেন।
এ প্রসঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।