পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানা হেফাজতে সাইদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলেছে ঐ যুবক হাজতের লোহার দরজায় মাথা ঠুকে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নির্যাতনের শিকার ঐ যুবক বর্তমানে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তিনি আটোয়ারী উপজেলার ছোটদাপ গ্রামের তফিজউদ্দিনের ছেলে। মিরপুর বাংলা কলেজে পড়তেন তিনি।
সাইদুল ইসলামের পরিবারের লোকজন জানান, শনিবার সকালে তার জন্য খাবার দিয়ে আসি। কিন্তু আমরা সরাসরি দেখা করতে পারিনি। ফেরার সময় পুলিশের চিত্কার শুনে হাজতে গিয়ে দেখি সাইদুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সাইদুল ইসলামের বোন জেসমিন আকতার মোবাইল ফোনে জানান, পুলিশ সাইদুলকে বিকেলে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাকে কেন নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইদুলকে আটক করা হয়েছে বলে জানায়। সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। থানা হেফাজতে আমার ভাই কীভাবে রক্তাক্ত হলো?—এমন প্রশ্ন তার। তিনি বলেন, ২০ হাজার টাকা দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেবে বলে জানিয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবির জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার সময় আহত ঐ যুবকের কপালের আঘাত থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে কয়েকটি সেলাই করা হয়েছে। লোহা জাতীয় কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাত পেয়ে এমনটা হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ রয়েছেন এবং পুলিশি পাহারায় তার চিকিত্সা চলছে।
আটোয়ারী থানার ওসি মো. ইজারউদ্দিন জানান, নির্যাতনের তথ্য সঠিক নয়। আটোয়ারীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি চুরির ঘটনায় আটককৃতদের কাছ থেকে ঐ যুবকের নাম আসলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে তাকে আদালতে নেওয়ার আগে তিনি হাজতের লোহার দরজায় মাথা ঠুকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে ফেলে শান্ত করেন এবং হাসপাতালে (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে) নিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা রয়েছে। বর্তমানে ঐ মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।