স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনে বাস মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়নি। যাত্রী সঙ্কটের কারণে বেশিরভাগ পরিবহন মালিকদের আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে বলে মালিকরা অভিযোগ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাসে মঙ্গলবার (১জুলাই) থেকে আগের ভাড়ায় ফিরছে। পরিবহন মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন ও বর্ধিত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আরও কয়েকদিন রাখার দাবি তুলেছেন। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত ২৪ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচল কার্যত বন্ধ কওে দেওয়া হয়। দুই মাস পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে গত ৩১ মে থেকে গণপরিবহন ও ট্রেন চালু করার অনুমতি দেয় সরকার। তখন বাসে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার শর্তে প্রায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি  দেওয়া হয়। 

পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করেছেন, জুন মাসে সারাদেশে কার্যত লকডাউন ছিল। এ পরিস্থিতিতে বাসে বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী ছিল খুবই কম। অনেক ট্রিপে নির্ধারিত অর্ধেক যাত্রীও পূর্ণ হয়নি। ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নিয়ে আবার অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করায় তাদেরকে প্রতি ট্রিপে আর্থিক লোকসানের শিকার হতে হয়েছে। 

আরও পড়ুন: শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে চলছে অবৈধভাবে মাটি ও গাছ কাটার হিড়িক

সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ রুটের তিশা ক্লাসিক (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার ওমর ফারুক বলেন, ‘একটি পরিবহন কোম্পানিতে একাধিক মালিকদের বাস চলাচল করে। করোনা পরিস্থিতিতে বাস সড়কে নামানোর পর দেখা যায় যে বর্ধিত ভাড়া দিয়েও যাত্রী মেলেনি। মাঝে মধ্যে ১০-১২ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হয়েছে। এতে গাড়ির জ্বালানি তেল, চালক ও হেলপার খরচ দেওয়ার সময় মালিককে পকেট থেকে টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার পরিবহন মালিকদের প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে।’ 

গাবতলী বাস টার্মিনালের একজন পরিবহন মালিক বলেন, ‘করোনাকালীন বাস চালাতে গিয়ে আমাদের অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। যাত্রী সঙ্কটের কারণে অনেক সময় ট্রিপ বাতিল করতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মালিকদেরকে ওই গাড়ির চালক ও হেলপারের নূন্যতম একটি খরচ দিতে হয়েছে। এরকম আরও অনেক কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সে ক্ষেত্রে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন ও বর্ধিত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আরও দুই সপ্তাহ পেছানো হলে মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।’

ইত্তেফাক/এএএম