প্রথমবারের মতো একই নাটকে অভিনয় করছেন ফারহানা মিলি, এ্যানি ও নাদিয়া। সঞ্জিত সরকারের রচনা ও পরিচালনায় ‘চিটিং মাস্টার’ শিরোনামের ধারাবাহিক নাটকে দর্শকেরা তাদের যথাক্রমে সোনিয়া, বন্যা ও জিনিয়া চরিত্রে দেখতে পাবেন। এই তিন নায়িকার গল্প শোনাচ্ছেন খালেদ আহমেদ
পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন মোবারক আলী। তিনি বেশ টাকা-পয়সার মালিক। তার উত্তরায় ছয়তলা একটা বাড়ি আছে। পুরো পরিবার নিয়ে তিনি পুরান ঢাকা থেকে উত্তরার বাড়িতে এসে ওঠেন। মোবারকের দুই মেয়ে। সোনিয়া ও জিনিয়া। সোনিয়ার সঙ্গে মোবারকের আড়তের ম্যানেজার শাহজাদার সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্ক জানাজানি হলে মোবারক শাহজাদাকে ম্যানেজার পদ থেকে বরখাস্ত করে। এমনকি শাহজাদাকে জেল পর্যন্ত খাটতে হয়। এই কারণে পরিবারের মধ্যে বিরাট অশান্তি শুরু হয়। ছোট মেয়ে কষ্ট করে ম্যাট্রিক পাস করেছে। দুইবার আইএ পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু ফেল করেছে। এটা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা অন্যখানে। ঘটনার ভিতরে ঘটনা থাকে। মোবারক আলী আরাফাত মাতব্বরের আড়তের ম্যানেজার ছিল। কোনো এক দুর্ঘটনায় আরাফাত মাতব্বর ও তার স্ত্রী মারা যান। বেঁচে থাকে একমাত্র পুত্র শাহজাদা। শাহজাদা পুরান ঢাকায় মানুষ না হয়ে দেশের অন্য এলাকায় মানুষ হয়। অনেকে ধারণা করে আরাফাত মাতব্বারের মৃত্যুর সঙ্গে মোবারক আলীর হাত আছে। মোবারক আলীর ডান হাত হিসেবে কাজ করে জুলফিকার। সে এক রহস্যময় মানুষ। সে ভালো না মন্দ সেইটা বোঝা মুশকিল। মোবারক আলীর বাড়িতে তিনজন ব্যাচেলর ভাড়া থাকে। রহিম, বাবুল ও বাদশাহ । রহিম ও বাবুল নকল বউ দেখিয়ে বাড়িভাড়া নেয়। রহিমের সঙ্গে প্রেম হয় বাড়ির ভাড়াটিয়ার মেয়ে বন্যার সঙ্গে কিন্তু সেখানেও টানাপোড়েন। এ বাড়িতে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভাড়া থাকে। ছয়তলার ভাড়াটিয়ারা সবাই ব্যাচেলর। এই কারণে তাদের অন্য কারও বাসায় যাওয়া পুরোপুরি নিষেধ এমনকি ছাদে যাওয়াও বারণ আছে। বাদশাহ তার কোনো কিছু প্রয়োজন হলেই বাড়িওয়ালার ঘরে চলে যায়। সেখানে জিনিয়ার সঙ্গে বাদশাহর দেখা হয়। প্রথমে বাদশাহকে জিনিয়া সহ্য করতে পারে না। অন্যদিকে এই বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা ছয়তলায় ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বাদশাহ বেশ বুদ্ধিমান ছেলে। সে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাড়িওয়ালা মোবারক আলীকে বারবার বিপদে ফেলে আবার নিজেই সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করে। বিভিন্ন ভাবে তাকে বোকা বানায়। এইভাবে একসময় মোবারক বাদশাহর ভক্ত হয়ে যায়। বারবার বাদশাহ মোবারকের বাসায় যায় এবং জিনিয়ার সঙ্গে কথা বলে। ধীরে ধীরে দুজনার মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। সখ্য থেকে একপর্যায়ে প্রেম হয়। একজন ভাড়াটিয়া বাড়িভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে বাড়িওয়ালার মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক ঘটনা ঘটতে থাকে। শাহজাদা এবং বাদশাহ সোনিয়া ও জিনিয়াকে বিয়ে করতে বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়—এমনি পারিবারিক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘চিটিং মাস্টার’। সঞ্জিত সরকারের রচনা ও পরিচালনায় এই নাটকে অভিনয় করছেন ফারহানা মিলি, এ্যানি ও নাদিয়া। নাটকের গল্পে মিলি ও নাদিয়া অর্থাত্ সোনিয়া ও জিনিয়া দুই বোন। তাদের বাসাতেই ভাড়া থাকেন বন্যা। ধারাবাহিকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে ফারহানা মিলি বলেন, ‘গত বছরও সঞ্জিত দাদার নির্দেশনায় একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলাম। নতুন বছরেও তার নির্দেশনায় আরেকটি ধারাবাহিকে নিয়মিত হলাম। যদিও এরইমধ্যে নাটকটির প্রচার শুরু হয়েছে এবং বেশ ভালো সাড়াও পাচ্ছি। সঞ্জিত দাদা নির্মাণের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস একজন। নির্মাণ কাজে বেশ অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। যেহেতু নিজেই নাটক রচনা করেন তাই তার কাজের প্রতি অন্যরকম দরদ আছে, সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজটি করেন।’ এ্যানি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি বেশ কিছু ধারাবাহিকে কাজ করছি। তবে সবগুলোর মধ্যে এই ধারাবাহিকের গল্প এবং আমার চরিত্রটি আমি বেশ উপভোগ করছি। সহশিল্পী হিসেবে আমার প্রিয় অনেক শিল্পীই আছেন। যে কারণে শুটিংয়ের সময়টা আমার বেশ ভালো কাটে। সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি আমি। তাই এই ধারাবাহিকের জন্য আমি বেশ সাড়াও পাচ্ছি।’ এবার মুখ খুললেন নাদিয়া। তিনি বলেন, ‘এই নাটকে আমি মিলি আপুর ছোট বোন জিনিয়া চরিত্রে অভিনয় করছি। যেহেতু ঢাকাইয়া ভাষার নাটক তাই শুটিংয়ের সময়টা দারুণ উপভোগ করেছি আমি।’ ধারাবাহিক নাটক ‘চিটিং মাস্টার’ সপ্তাহের প্রতি বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাত ১০টায় আরটিভিতে প্রচারিত হয়।