নারায়ণগঞ্জে স্কুল ছাত্রী জিসা মনি অপহরণের পর কথিত গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (প্রত্যাহার) শামীম আল মামুনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জিসা মনি অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে আসামির পরিবারের লোকজন অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়। তদন্তের পর তার অপেশাদারিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এসপি। গত ৪ জুলাই শহরের দেওভোগ এলএন রোড এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে স্কুলছাত্রী জিসা মনি (১৫) নিখোঁজ হয়।
এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। ওই দিনই তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় দুইদিন পর গ্রেফতার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানী এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)।
গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। ফেরার পর ইকবাল পণ্ডিত নামে এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার করছিল বলে জানায় জিসা মনি। পুলিশ অপহরণ মামলায় ইকবালকেও গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া তিন আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ওই দুই কর্মকর্তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
জিসা কান্ডের আসামীদের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন:
রিমান্ডের ভয়ে ভীত হয়ে জীবিত স্কুলছাত্রী জিসা মনিকে ‘ধর্ষণ ও হত্যা’র স্বীকারোক্তি দিয়েছেন উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গ্রেফতার তিন আসামি। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিরা এ আবেদন জানান। সকাল ১১টার দিকে জিসা মনি অপহরণ মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে তোলা হয়। পরে আসামিরা রিমান্ডের ভয়ে ভীত হয়ে ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার জবানবন্দি দিয়েছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়।
আদালত আবেদন গ্রহণ করে তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. রোকন উদ্দিন বলেন, আজ আসামিদের আদালতে তোলা হয়। তিন আসামি বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। আসামিদের পক্ষে জবানবন্দি প্রত্যাহারের একটি পিটিশন জমা দেওয়া হয়। পরে আদালত তা গ্রহণ করে তা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আইনজীবী জানান, রিমান্ডের ভয়ে ভীত হয়ে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির পরিণতি না বুঝেই অমন জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। যেহেতু ভিক্টিম উদ্ধার হয়েছে সুতরাং স্বীকারোক্তিতে দেওয়া বিষয়টির সাথে আসল ঘটনার সামঞ্জস্য নেই।
কেবল নিজেদের পুলিশি নির্যাতন থেকে রক্ষার্থে ওই জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল দাবি করেন আসামিরা। এদিকে একই দিন আদালতে আসামি আব্দুল্লাহ ও রকিবের জামিন আবেদন করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ জিসা মনির স্বামী ইকবাল পণ্ডিতের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন। গত ৪ জুলাই স্কুলছাত্রী জিসা মনি (১৫) নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)।
ওই দিনই তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় দুইদিন পর গ্রেফতার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)। গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। এ ঘটনায় চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এদিকে গতকাল সোমবার স্কুলছাত্রী জিসা মনি অপহরন মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির জামিন এবং এক আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে রিমান্ড ও জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে তিন আসামির দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করে নথিভুক্ত করেছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. রোকন উদ্দিন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি আব্দুল্লাহ ও রকিবের জামিন আবেদন করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ জিসা মনির স্বামী ইকবাল পন্ডিতের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদলত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন। তিনি বলেন, আমরা তিন আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। আদালত তা গ্রহণ করে নথিভুক্ত করেছেন। আগামীতে আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের জামিন আবেদন করবো।
ইত্তেফাক/এসআই