ভরা মৌসুমেও ইলিশ শূন্য পাথরঘাটা মৎস্যবন্দর। এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটন আর চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন জেলেরা। হাহাকার চলছে উপকূলীয় জেলে পল্লিগুলোতে।
বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) পাথরঘাটায় দেখা গেছে, ঘাটে নোঙর করে আছে জেলেদের শতাধিক ট্রলার, বাজারে নেই ইলিশ। আড়তে অলস সময় পার করছেন আড়তদাররা। দুই-এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে আনা হলেও নেই হাঁকডাক। বছরের এ ভরা মৌসুমে জেলেরা মহোত্সবে ইলিশ ধরেন, ট্রলার ভর্তি মাছ আসে অবতরণ কেন্দ্রে। মাছ রাখতেই শুরু হয় হাঁকডাক। অবতরণ এলাকায় থাকে ক্রয়-বিক্রয়ের সরগরম। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ এ সময়ে শত শত মণ ইলিশ মাছ অবতরণ কেন্দ্রে আসার কথা থাকলেও দেখা নেই ইলিশের।
উপজেলার পদ্মা এলাকার জেলে মনুু মাঝি জানান, এবার সাগরে মাছের দেখা মেলেনি। যে মাছ পেয়েছেন তাতে খরচের টাকা ওঠেনি। এতে দৈনিক খরচের তুলনায় আয় না হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাছাড়া বিনিয়োগ করে লোকসান গুনছেন আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীসহ এর সঙ্গে জড়িতরা।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, প্রতি বছর বৈশাখ থেকে ইলিশ ধরা শুরু হলেও এ বছর ভরা মৌসুমে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষেও সমুদ্রে ইলিশের দেখা মিলছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন, অতিরিক্ত পানির চাপ, পানি দূষণসহ নানা কারণে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। তবে এটি গবেষণার বিষয়, দ্রুত এ বিষয় গবেষণাগারে জানাবেন বলেও জানান তিনি।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে জেলেরা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না। যে কারণে মনে হয় তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। আশা করি, অচিরেই ইলিশ ধরা পড়বে।