প্রাচীন দেওড়া নগরীর খোঁজে

প্রভাস চন্দ্র সেনের ‘বগুড়ার ইতিহাস’ (১৯২৯) গ্রন্থের বয়ান অনুযায়ী বৃহত্তর বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানা  থেকে ৩ মাইল উত্তর-পূর্বে দেওড়া গ্রাম রাজা দেওপালের প্রাচীন নগরী। যা বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার একেবারে দক্ষিণে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষ বলতে এখন দৃশ্যমান কিছু নেই চললেই চলে। দীর্ঘ সময় অরক্ষিত থাকায় পুকুর খনন, রাস্তা নির্মাণ, বসত-বাড়ি তৈরি কিংবা চাষাবাদের সময় মাটি খননের ফলে প্রাচীন যেসব ইট-পাথর, পুরাকীর্তি পাওয়া যায়—সেসব থেকে এ অঞ্চলের ইতিহাস কিছুটা ধারণা করা যায়। খননকালে এখানে একটি বৃহত্ সূর্য মূর্তি এবং পাল যুগের কয়েকটি বিষ্ণুমূর্তি পাওয়া গিয়েছে। কয়েক বছর আগে পুকুর খননের সময় এক কৃষক পাঁচটি দেবীর মূতি পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিয়ে দেন। মূর্তিগুলো কিছুদিন  তাঁরা মণ্ডবে রেখে পুজোও করেন। পরে সেগুলো চুরি হয়ে যায়।

পাল যুগের প্রাচীন দেওড়া নগরী ধ্বংসস্তূপ-বন-জঙ্গলে রূপ নিয়েছে। উঁচু উঁচু ধ্বংসস্তূপ কেটে কৃষিজমি বানানো হয়। অনেক প্রাচীন মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এই জায়গা সংরক্ষণ কিংবা খননের বিষয়ে কর্তৃপক্ষীয় কোনো আগ্রহ নেই। ইতিহাস চায় তার প্রমাণ। আর এই প্রমাণাদি সংগ্রহের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের।  তারাই ইতিহাসের এই দায় মুক্ত করবে বলে প্রত্যাশা।

আকন্দ মোহাম্মদ শাকিল, শিক্ষার্থী,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়