শুধু নামের মিল থাকায় জেল খাটা ভোলার লিটনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে তার পরিচয় নিশ্চিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ কে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিতের পর দণ্ডিত মামলায় সে জড়িত কি না, তা নিশ্চিতপূর্বক উপযুক্ত আদেশ দিতে বিচারিক আদালতকে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত এবং রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না শুনানি করেন।
গত ২২ আগস্ট ‘শুধু নাম-ঠিকানা মিলে জেল খাটছেন দিনমজুর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই জনের নাম মো. লিটন। বাবার নাম, গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার নামও এক। পার্থক্য শুধু বয়সে। এক লিটনের (৪১) অপরাধে প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন নিরপরাধ লিটন (৩০)। প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং কারাবন্দি মো. লিটন।
অমিত দাসগুপ্ত বলেন, পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে ভোলার যে গ্রাম থেকে লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে এই নামে আর কোনো ব্যক্তি নাই। আর গ্রেফতারের পর এলাকাবাসীর কেউ বলেনি যে এই লিটন আসল আসামি লিটন নয়। তিনি বলেন, আমি আদালতে বলেছি লিটন নামে যেই ব্যক্তি জামিন নিয়ে পলাতক হয়েছেন নথিতে নিশ্চয়ই তার স্বাক্ষর রয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তির স্বাক্ষরের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হোক।