এক বছর আগে তাজিয়া মিছিলে শরীরে ধাক্কা লাগা নিয়ে ঝগড়ার জেরে অতি সম্প্রতি ওয়ারি এলাকায় কিশোর মুন্না হত্যার অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মোহাম্মদ ফেরদৌস, জিসান, বাপ্পী ও লাবিব নামে চার জন প্রাপ্ত বয়স্ক। বাকি ১৩ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, গত ৩০ আগস্ট রবিবার বিকাল ৫টার দিকে পুরান ঢাকার ওয়ারী থানার চন্দ্রমোহন বসাক স্ট্রিটের রাধা গোবিন্দ ঝিউ মন্দিরের কাছে মুন্না (১৮) শাহিন (১৭) নামে দুই কিশোরকে কয়েক জন মিলে চাকু ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শাহিন গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।
ডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, এক বছর আগে আশুরার দিনে কথা কাটাকাটির জেরে নিহত মুন্না ও তার বন্ধু বিজয়সহ কয়েক জনকে মারধর করে বাপ্পী, সায়েম ও ফেরদৌসসহ তার সহযোগী কিশোর বয়সি আরো অনেকে। এ বছর আশুরার দিন সকালে গত বছরের প্রতিশোধ নিতে সায়েমদের মারধর করে বিজয় ও মুন্নারা। এদিন বিকালে বাপ্পী ও সায়েমরা আবার সংগঠিত হয়ে মুন্না ও তার বন্ধুদের মারধর করে। এ সময় মুন্না নিহত হয়।
এ ঘটনায় মুন্নার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে গত সোমবার ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়। এদের অধিকাংশই কর্মজীবী কিশোর। এদের মধ্যে বাপ্পী, ফেরদৌস ও সায়েম ঘটনার সময় মুন্নাকে চাকু ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। বাকিরা সহযোগী হিসেবে ছিলেন।