আগস্টে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে

আগস্টে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ সময়ে ২১১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৮৬টি, গণধর্ষণ ২৬টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২৪টি, ধর্ষণ ও হত্যা তিনটি, যৌন হয়রানি ২৫টি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ২৮টি। অপহরণের শিকার হয়েছে পাঁচ শিশু-কিশোরী। আট শিশুসহ ১০ জন নারী নিখোঁজ হয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছে চার নারী ও কিশোরী। জুলাইয়ে ১৭২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গতকাল মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এমএসএফ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়—গেল মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এক জন। যদিও জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৪৫। তবে ক্রসফায়ার ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে দুই জনের মৃত্যু, এক জনকে নির্যাতন ও সাত জনকে হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। আগস্টে ৬৩ নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ছয় জন শিশু ও ৫৭ জন নারী। জুলাইয়ে হত্যার শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৩ জন। আগস্টে মতপ্রকাশের অধিকারের চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। এ সময় ১৫ সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাত জন নাগরিককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন আগস্টে কমেছে। আগস্টে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে পাঁচ জন বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও জুলাই মাসে এ সংখ্যা ছিল সাত জন। প্রতিবেদনে এমএসএফ করোনা মহামারিকালীন এ সংকটকালে সরকারের কাছে জনগণের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।