এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার মুক্ত করার হুঁশিয়ারি ডিসি ড. রহিমা খাতুনের

মাদারীপুর জেলার ৪টি উপজেলায় শতাধিক ছোট-বড় ড্রেজার অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। সম্প্রতি বন্যার স্রোতে এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের তীব্রতা চরমভাবে বেড়ে যায়। এমনকি শহররক্ষা বাঁধের লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার বন্ধে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। 

এক পর্যায়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয় জেলার সদর, রাজৈর, কালকিনি ও শিবচর উপজেলায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস করার অভিযান পরিচালনা হয়ে আসছিল।

এদিকে জেলার মাদারীপুর সদর, কালকিনি ও রাজৈর বালু উত্তোলন বন্ধ করা হলেও শিবচরে বিষয়টি অব্যাহত ছিল। গত ২৮ আগস্ট শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস করার ঘটনায় আদালতে জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনকে বিবাদী করে মাদারীপুর আদালতে দু’টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৫৮২, মৃত্যু ৩৫ জন

অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে কিনা বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাদারীপুর জেলা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার মুক্ত করা হবে। পদ্মাসেতু, এক্সপ্রেস হাইওয়েসহ মাদারীপুরে বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পও এই বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মাদারীপুর অবশ্যই অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজারমুক্ত একটি জেলা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ড. রহিমা খাতুন জেলা প্রশাসক হিসাবে মাদারীপুরে যোগদান করেন। যোগদান করার কিছুদিন পর জেলার ৪ উপজেলার ইউএনওসহ একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সবাইকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত দিনের ডিসি সাহেবরা যেভাবে চালিয়েছে আমি একটু ব্যতিক্রম চালাব। কারণ আমি নিজে দুর্নীতি করব না অন্যকে দুর্নীতি করতে দিব না। ৪ উপজেলায় ইউএনওদের বলেন, আপনাদের প্রথম কাজ হবে অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার মুক্ত করা। ইতিমধ্যে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখা, অর্পিত সম্পত্তি শাখার দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিসি অফিসসহ জেলার ৪ উপজেলায় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন।   

ইত্তেফাক/এএএম