নির্মাণের তিন বছর পরও চালু হয়নি বাউফলের দুই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র!

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দুই ইউনিয়নে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) ঐ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুইটি  নির্মাণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামে সাবেক এমপি মরহুম রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ২০১৪ সালে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। অন্যদিকে বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামে ২০১৬ সালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হয়। প্রতিটি তিনতলাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও তিনতলাবিশিষ্ট আবাসিক বাসভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চিকিত্সক কিংবা জনবল নিয়োগ এবং যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে ঐ দুইটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐ দুইটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুইটির ভবনের বাইরে ও ভিতরে শ্যাওলা ধরেছে। ভবনের রং উঠে যাচ্ছে। অধিকাংশ দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালের বিশাল সোলার প্যানেল অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। নিচতলার প্রত্যেকটি রুমের দরজা-জানালা খোলা ও অপরিচ্ছন্ন। ভিতরে অহেতুক বৈদ্যুতিক পাখা চলছে। টয়লেটগুলো নোংরা। দেখে মনে হয়েছে বহিরাগতরা টয়লেটগুলো ব্যবহার করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ‘মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই দুইটি কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এগুলোর প্রতি এখন কারো সুনজর নেই। নামে মাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করে সরকারি টাকার অপচয় করা হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত জনবল এবং যন্ত্রপাতি না দেওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে