কামারখন্দে বেড়েছে ট্রান্সফর্মার ও মিটার চুরি

কামারখন্দে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ও মিটার চুরি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক, চালকল মালিক ও কৃষকরা। মিটার চুরির পর সংযোগস্থলের পাশে রেখে যাওয়া বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে  চোরদের চাহিদামতো টাকা পরিশোধ করলেই কোথায় আছে চুরি যাওয়া মিটার বলে দেয় তারা। সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর আওতায় কামারখন্দ সাব জোনাল অফিসের তথ্য মতে, গত ৮ মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের আটটি পৃথক ঘটনায় ১৩টি ট্রান্সফর্মার ও ১৭টি শিল্প ও সেচের থ্রি ফেইস মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে জামতৈল ও কর্ণসূতি গ্রামে ১১টি শিল্প ও সেচের মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা চোরদের বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে উদ্ধার করেছে চুরি যাওয়া মিটারগুলো।

জামতৈল গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহক আব্দুস সাত্তার জানান, সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সেচ পাম্পের মিটার চুরি হয়। সেখানে একটি কাগজে  চোরদের মিটার নম্বর ও তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে রেখে যায়। পরবর্তী সময়ে ঐ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে টাকা ছাড়া মিটার দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা দিলে মিটারের সন্ধান মেলে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর আওতায় কামারখন্দ সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) কামরুজ্জামান জানান, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ও মিটার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে কামারখন্দ থানায় একাধিকবার এফআইআরের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত ট্রান্সফর্মার উদ্ধার ও এসব ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি। কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ট্রান্সফর্মার ও মিটার চুরির ঘটনা শুধু কামারখন্দ থানায় নয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমন ঘটনা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ঘটাচ্ছে। আমরা এই চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষ এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে না। যারা পল্লী বিদ্যুতে কাজ করে এবং বিদ্যুত্ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এই ধরনের কাজ করতে পারে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চক্রটিকে গ্রেফতার করতে পারব।