গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি

করোনার সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। প্রাণঘাতী করোনার ছোবল থেকে যেন রেহাই নেই। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রথম দিকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, দোকানপাট, শপিংমল, সকল যানবাহন সীমিত আকারে খোলার নিয়মনীতি থাকলেও বর্তমানে সবকিছুই যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান করা, স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ অন্যান্য নিয়মকানুনের বালাই খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে গণপরিবহনগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কোনো প্রভাবই নেই। করোনা সংক্রমণ যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য প্রথম দিকে পরিবহনগুলোতে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও, বর্তমানে তার ধারেকাছেও নেই। বরং যাচ্ছেতাইভাবে পরিবহনগুলো চলমান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে হয়। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোয় তীব্র যানজট লেগেই থাকত। যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। করোনাকালীন সময়েও সে একই রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা কঠিন কাজ। আর জনসাধারণের মধ্যে বিধিনিষেধ ভঙ্গ করার প্রবণতা তো আছেই। প্রশাসনকর্তৃক যত বারই বলা হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করা, বাইরে বের হলে অন্তত মাস্ক পরিধান করা, কিন্তু কে শোনে কার কথা। বাইরের পরিবেশ দেখলে মনে হয়, করোনা নামক ভাইরাস যে আমাদের দেশে মহামারি আকারে বিরাজ করছে, তা ভুলে গেছে সবাই। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও, বর্তমানে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। যেসব পরিবারে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে, কেবল সেসব পরিবার ও তাদের আত্মীয়স্বজনরাই বাস্তবতার সম্মুখীন। লকডাউনের পরবর্তী সময়ে কিছু নীতিমালার সাপেক্ষে গণপরিবহন চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়। সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাস ও মিনিবাসে শতকরা ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর কথা। পাশাপাশি দুইটি আসনের একটি খালি রেখে যাত্রী পরিবহন করতে হবে এবং মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উলটো। বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হলেও সিট খালি রেখে বাসে যাত্রী উঠানোর ব্যাপারে মনোযোগ নেই। উলটো লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই সুযোগ কাজে লাগানোর পাঁয়তারা চলছে। দেশের অন্যান্য শহরে যাত্রী কম থাকায় বাসের ভেতরে কিছুটা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলেও, রাজধানী ঢাকার চিত্র পুরোই ব্যতিক্রম। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি তো মানা হচ্ছেই না, বরং নেওয়া হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও বেশি টাকা। আর এর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। গণপরিবহনগুলোই এখন করোনা বিস্তারের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। এ অবস্থায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। নয়তো প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়