প্রস্তাবিত কর ও কাঁচাপাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় বিজেএ

দেশের পাটশিল্প রক্ষায় প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারসহ কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাট রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আলাপকালে এই দাবি জানান জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান আরজু রহমান ভুঁইয়া জানান, চলতি বছর সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে ৮৪ লাখ বেল পাট উত্পাদন হলেও সাম্প্রতিক বন্যায় ৫ লাখ বেল পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন মাত্র ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে দেশের বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ইতিমধ্যে প্রতি টন কাঁচা পাট রপ্তানির জন্য ৮৫০ ডলার রপ্তানি শুল্ক ধার্য করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। দেশের পাটশিল্পের জন্য এটি আত্মঘাতী প্রস্তাব দাবি করে পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের এই নেতা বলেন, তাদের এই প্রস্তাব সরকার বাস্তবায়ন করলে পাটশিল্পের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দেশের পাটের বাজার চলে যাবে অন্য দেশে এবং পাটশিল্পের সঙ্গে জড়িত বৃহত্ জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, বিজেএমসির কাছে গত অর্থ বছর উত্পাদিত সাড়ে ৬ লাখ বেল পাট এখনো উদ্বৃত্ত রয়েছে। সে হিসেবে এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও দেশে প্রায় ৭২ লাখ বেল কাঁচা পাট উত্পাদন হবে। অভ্যন্তরীণ শিল্পকারখানায় প্রয়োজন ৫৫ লাখ বেল পাট। ফলে দেশে উত্পাদিত কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত থাকবে ১৭ লাখ বেল। দেশের পাট রপ্তানি বন্ধ করতে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করেন, স্পিনার অ্যাসোসিয়েশনের ১০টি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে কাঁচা পাটের দর কমাতে এবং পাট মজুত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অযৌক্তিক প্রস্তাব তুলে ধরছে। তাই কাঁচা পাট রপ্তানির খাতে যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে ভেবে-চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।