যেসব ভোজনরসিক মাছ খেতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে একটা বিশেষ জায়গা দখল করে আছে সুস্বাদু আঙ্গুস মাছ। অঞ্চলভেদে মাছটি আগুনচোখা, আংরোট ও কারসা নামে পরিচিত। এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাবিও অ্যাংরা। একসময় মাছটি বৃহত্তর সিলেট ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে প্রচুর পাওয়া গেলেও এখন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভুলতে বসেছেন মাছটির স্বাদের কথা।
সম্প্রতি বিলুপ্তপ্রায় মাছটির প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর নীলফামারীর সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। গবেষক দলে ছিলেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহমদ।
এ প্রসঙ্গে ড. রশীদুল হাসান জানান, আঙ্গুস মাছের কৃত্রিম প্রজনন তুলনামূলকভাবে জটিল এবং নার্সারি ব্যবস্থাপনায় পোনার মৃত্যুর হার বেশি। তিনি বলেন, মাছটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, চিকলী ও আত্রাই নদী থেকে আঙ্গুসের ১৫-২০ গ্রাম ওজনের পোনা সংগ্রহ করা হয়। পোনা সংগ্রহের পর সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের পুকুরে তা প্রতিপালন করে ব্রুড মাছ তৈরি করা হয়। এরপর চলতি প্রজনন মৌসুমে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জিত হয়। তবে এ বিষয়ে আরো গবেষণা চলছে বলে তিনি জানান। ড. রশীদুল হাসান বলেন, কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে পিজি (পুরুষ ৬ মি.গ্রাম/ কেজি; স্ত্রী ১২ মি.গ্রাম/কেজি) ও ওভোহোম (পুরুষ ০.৭ মি.লি/কেজি; স্ত্রী ০.৯ মি.লি/কেজি) ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি আঙ্গুস মাছ ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম হলেই পরিপক্ব ও প্রজননক্ষম হয়। এর প্রজননকাল মে থেকে আগস্ট। তবে জুন-জুলাই মাস সর্বোচ্চ প্রজননকাল। একই বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী মাছ পুরুষ মাছের চেয়ে আকারে বড় হয়। মিঠা পানির আঙ্গুস মাছ আকারে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। একটি স্ত্রী আঙ্গুস মাছের ডিম ধারণক্ষমতা আকারভেদে ২০ থেকে ৫০ হাজার। মাছটি খরস্রোতা নদী ও প্রবাহমান জলাশয়ে পাওয়া যায় এবং মাছটি বেশ দামি। বিএফআরআই জানিয়েছে, মাছটির প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করায় এখন তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। চাষাবাদের মাধ্যমে এর উত্পাদন বৃদ্ধিও করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও বিপন্ন মাছ পুনরুদ্ধারে ইনস্টিটিউট কাজ করছে। ইতিমধ্যে ২৩ প্রজাতির বিপন্ন ও দেশীয় ছোট মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ইনস্টিটিউট রানি মাছ, কাকিলা, পিয়ালি, বাতাসি, কাজলি, শালবাইম, ডেলা ও বোল মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালনা করছে।