বন্দরনগরীর পতেঙ্গায় ১৪ নম্বর ঘাটের কাছে একটি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) বিস্ফোরণে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আগুনে ঝলসে আরো তিন শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লরির তেলের ট্যাংকে ওয়েল্ডিং করার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দমকল বিভাগ।
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন ডিপোর মেকানিক্যাল হেলপার মোকতার হোসেন (২০), মেকানিক মো. নেওয়াজ উদ্দিন (২৬) এবং হেলপার আরমান উদ্দিন। আরমান উদ্দিনের বাড়ি নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকায়। আহতরা হলেন জুবায়ের (২৬), আমির হোসেন (৩২) ও রবিউল আলম।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্তব্যরত নায়েক আব্দুল হামিদ ইত্তেফাককে বলেন, আহতদের বার্ন ইউনিটের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রবিউল আলমের অবস্থা গুরুতর।
পতেঙ্গা থানার ওসি জোবায়ের সৈয়দ জানান, পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় ১৪ নম্বর ঘাটের কাছে ইনকনট্রেড কনটেইনার ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল আলম জানান, কনটেইনার ডিপোতে গাড়ির তেলের ট্যাংকে ওয়েল্ডিং করার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ইনকনট্রেড কনটেইনার ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন সরকার ইত্তেফাককে জানান, ডিপোর ওয়ার্কশপে তাদের একটি লরির তেলের ট্যাংক ওয়েল্ডিং করার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তেলের ট্যাংক পুরোপুরি পরিষ্কার না করে ওয়েল্ডিং করায় এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এজন্য ওয়ার্কশপের মেকানিকের অবহেলা ও অসাবধানতা দায়ী বলে তিনি মনে করছেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জমি লিজ নিয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কের পাশে কর্ণফুলী নদীর তীরে বেসরকারি ইনকনট্রেড কনটেইনার ডিপো গড়ে উঠেছে। এর মালিক এফবিসিসিআইর প্রাক্তন সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরসহ দেশের জ্বালানি সেক্টরের উল্লেখ্যযোগ্যসংখ্যক স্পর্শকাতর স্থাপনাসমূহের কাছেই এই বিস্ফোরণকে বিশেষজ্ঞ মহল অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। দাহ্য, অতিদাহ্য এবং সহজে বিস্ফোরণশীল পদার্থ ভর্তি ট্যাংক বা কনটেইনারে মেরামত কাজ করার জন্য সরকার প্রণীত যেসব বিধিমালা রয়েছে তা না মানার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তাদের অভিমত।