মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মধ্যপ্রাচ্যফেরত প্রবাসীরা দুইদফা টিকিট করার পর তা বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া কারো ভিসার মেয়াদ, কারো টিকিটের মেয়াদ, কারো আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
পতনঊষার ইউনিয়নের কিছু প্রবাসী প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা চেয়ে কয়েক দিন আগে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। পরে সরকারি সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারি সহায়তার দাবি জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
আবুধাবি থেকে আসা পতনঊষার ইউনিয়নের আহমেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ জানুয়ারি দুই মাসের জন্য আবুধাবি থেকে দেশে আসি। দুই মাস পর গত ১৯ মার্চ প্রবাসে ফেরত যাওয়ার জন্য ৩৮ হাজার টাকায় টিকিটও করি। পরে করোনা মহামারির জন্য টিকিট বাতিল হয়। দ্বিতীয় দফায় সিলেটে গিয়ে করোনা রিপোর্ট সংগ্রহ করে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে গত ১৯ আগস্টের টিকিট করি। এরপর সে টিকিটও বাতিল হয়ে যায়। আহমেদ আলী বলেন, দেশে আসার পর থেকে টাকাপয়সা সব শেষ হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। তারপর বারবার খরচ করেও প্রবাসের কর্মস্থলে যেতে পারছি না। ৩ হাজার ৫০০ টাকা লেগেছে করোনা রিপোর্ট সংগ্রহ করতে। কিন্তু এজন্য তিন দিন সিলেট যাতায়াতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তাছাড়া দুই দফা অনলাইনেও আবেদন করেছি। কোনো কাজ হচ্ছে না।
ওমান থেকে আসা উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের সালেহ আহমদ বলেন, চিকিত্সার জন্য গত ৩১ মার্চ এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসি। এরপর করোনার কারণে আটকা পড়ি। পুনরায় ওমানের কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেও যেতে পারছি না। অথচ ৩ সেপ্টেম্বর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব তা ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রবাসে ফেরত যেতে কিংবা সরকারি প্রণোদনা পেতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাইনি। কাতার থেকে আসা শমশেরনগরের প্রবাসী এমলাক মিয়া বলেন, আমরাও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরকার প্রবাসীদের প্রতি সবসময় আন্তরিক। তাদের লিখিত আবেদন যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া প্রবাসে যেতে আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রবাসীদের একটি ফরম পূরণ করে ঊর্ধ্বতন অফিসে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া আপাতত তাদের জন্য আর কোনো নির্দেশনা আসেনি।