জীবনটা কত সুন্দর ছিল।
বিকেলবেলা চায়ের দোকানে জমজমাট আড্ডা কিংবা ব্রহ্মপুত্রের তীরে ঘুরে বেড়ানো। কখনো নৌকায় করে ব্রহ্মপুত্রের বুকে উদাস বিকেল কাটিয়ে দেওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে হৈহুল্লোড়ে কখনো কখনো মন চাইলে সালোরা কিংবা বড়বিলায় ঘুরতে চলে যাওয়া। সবাই মিলে সালোরার মন মাতানো নিবিড় বন কিংবা বড়বিলার শাপলাপদ্মের ভিড়ে হারিয়ে গেছি কতবার! কিন্তু আজ সব যেন অতীত।
আজ বান্ধবহীন। সবাই যার যার বাড়িতে গৃহবন্দি। ঘুরে বেড়ানো হয় না কিংবা খেতে যাওয়া হয় না চা। মাঝে মাঝে মনে হয় সেই চাওয়ালার কথা! মূক একটা ছেলে, কিন্তু চা বানায় চমত্কার। তার হাতের চা খাওয়ার লোভে মৌমাছির মতো ভিড় জমাতাম। সবসময়ই তার টং ভরে থাকত চাপিপাসুতে। আচ্ছা, এখনো কি তার দোকান জমজমাট? হয়তো! হয়তো না!
আমার মতো অনেকেই এখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়! চাওয়ালার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হয়তো তার চায়ের দোকানটাই ছিল, এখন তার উপার্জন কি আগের মতো আছে? কিংবা সেই নৌকার মাঝি, যে সারা দিন মরা ব্রহ্মপুত্রে নৌকা চালায়। পার্কে ঘুরতে যাওয়া প্রেমিকযুগল তার নৌকার একমাত্র আরোহী। তাদের নিয়ে নদীর চর পরা বুকে বৈঠা মেরে সে ঘুরত। এটাই হয়তো তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকায় নেই আরোহী। হয়তো মাঝিরা নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করে...। কিন্তু করোনা মানুষের শখ-আহ্লাদ ধুয়েমুছে দিয়েছে।
সেই ঝাল মুড়িওয়ালা, স্কুলের গেটের সামনে যে দাঁড়িয়ে থাকত। টিফিন টাইমে ছেলেপেলের দল ছুটত ঝালমুড়ি খেতে। কিংবা সেই চটপটিওয়ালা কিংবা আচারবিক্রেতা! সবাই চাতকপাখির মতো অপেক্ষায় আছে কবে স্কুল-কলেজ খুলবে...। একটা প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খায়—এতদিন কি সে টিকে থাকতে পারবে?