করোনাকালে দরকার নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব

করোনাকালে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্যসহ পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নারী ও কিশোরীদের জরুরি প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অথবা টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বুধবার অনলাইনে আয়োজিত ‘করোনাকালে নারী ও কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা :প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। মেরি স্টোপস বাংলাদেশ ও টিম অ্যাসোসিয়েটস যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে করোনাকালে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, একটি গর্ভপাতও যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। সেবা দিতে মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। প্রসবকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, শুধু প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নয়, নারীর সকল প্রকার অধিকার নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। মেরি স্টোপস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাশরুরুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বে করোনার কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে আগামী দিনগুলোতে শিশু ও গর্ভকালীন মৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ পরিবার পরিকল্পনাসেবার প্রায় ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমেছে ও বেড়েছে অনিরাপদ গর্ভপাত। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সময়ে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের হার বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তিনি উল্লেখ করেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, করোনাকালে শিশুর জন্ম ও পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী ও নতুন মায়েদের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অথবা টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কোথাও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকলে সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিষ্কার বার্থ কিটের প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা ও জোগান দিতে হবে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য জীবন রক্ষাকারীসেবা ও জোগানের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।

সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের সঞ্চালনায় সংলাপে আরো অংশ নেন স্ট্রেনদেনিং ফ্যামিলি প্ল্যানিং সার্ভিস থ্রু অ্যাডভোকেসি ইনিশিয়েটিভের ফোকাল পারসন মনজুন নাহার, স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, সিরাক-এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত প্রমুখ।