বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছাত্রলীগের সব ইউনিটের কমিটি গঠন ও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনার পর ফের আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের এক বছর পার হলেও এখনো কমিটি না হওয়ায় বঞ্চিত রয়েছেন নেতাকর্মীরা। গত বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগের এই ইউনিটের কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী অনেক ছাত্রনেতা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৩৯ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। এরপর গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ফের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা সংঘর্ষে জড়ালে কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার চার মাস পর গত বছরের ২০ জুলাই শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আশরাফুল ইসলাম টিটনকে আহ্বায়ক ও জামাল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি বিলুপ্তির প্রায় দেড় বছর পার হলেও কমিটি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
এদিকে গত ২৭ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক মহানগর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ড কমিটি ও সমস্ত কমিটির কাঠামো দাঁড় করানোর আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসব ইউনিটে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেখতে চাই।’ আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতার এমন ঘোষণার পর আবারও দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছেও লবিং-তদবির করে যাচ্ছেন তারা।