‘মডেল’ হাসপাতাল হচ্ছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত্ সরকারি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ‘মডেল’ রূপ পেতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শন ও চিকিত্সক-নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সভা করেছে সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটি।

‘মডেল’ রূপ দেওয়া সম্ভব হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা সেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি ও রোগী হয়রানি কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় জনবল সংকট দূরীকরণসহ স্থানীয় কমিউনিটিকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালটিকে একটি ‘জনবান্ধব’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সি-জে অর্থাত্ যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঝিনাইদহ জেলা জেনারেল হাসপাতালকে ‘মডেল’ ধরে তার আদলেই সরকার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও ‘মডেল’ হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে সবই রয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততার অভাব রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে ‘কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ’ গঠন করে এ প্রতিষ্ঠানটিকে ‘মডেল’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, খুমেককে ‘মডেল’ রূপ দিতে সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে একটি টিম গত বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। দিনব্যাপী হাসপাতালে অবস্থান করে তারা চিকিত্সক-নার্স,  বিভাগ ও ইউনিট প্রধান, আরপি, আরএস, আরএমও, ইএমও, ইনচার্জ, সহকারী রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্সিং সুপারভাইজার, নার্সিং কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ, ওয়ার্ড মাস্টারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনীতিক, সিভিল সোসাইটি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য  ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সার্বিক সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

এ সময় সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটির ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও আদ্ব-দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক ও আইসিডিডিআরবি’র চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. ইকবাল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে গত বুধবার রাতে ডা. ইমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, চৌগাছা ও ঝিনাইদহের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও ‘মডেল’ রূপ দিতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের মানসিকতায় পরিবর্তন এনে ‘সত্ ও আন্তরিক’ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, তিনি নিজে দুর্নীতি করেন না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেন না। আর এ কারণেই ‘মডেল’ রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখেই বিষয়টিকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে নগরীর বয়রা এলাকায় ৪০ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর ৭৫ শয্যাবিশিষ্ট ‘খুলনা হাসপাতালের’ যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। হাসপাতালটি ২০০৮ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও অদ্যাবধি এর জন্য কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২৫০ শয্যার জন্য নির্ধারিত জনবল দিয়েই চলছে হাজারো রোগীর চিকিত্সা সেবা।

৫০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিত্সকসহ কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫০ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিত্সক-কর্মকর্তাসহ মঞ্জুরিকৃত মোট পদ আছে ৮৯৭ জনের। এর মধ্যে ২০১টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিত্সক ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে।