লাদাখে অশান্তির জন্য চীন দায়ী : ভারত

বিরোধপূর্ণ সীমান্ত লাদাখে গত চার মাস ধরে অশান্তির জন্য চীনকে দায়ী করেছে ভারত। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় এই কথা জানায়। সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গতকাল লাদাখে দুই দিনের সফরে গেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে। এর আগে এক গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, লাদাখের এক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চীন। খবর দ্য হিন্দু ও আনন্দবাজার পত্রিকার

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, একতরফাভাবে এলএসি’র অবস্থানের বদল ঘটাতে চেয়েই পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে চীন। তার অভিযোগ লাদাখের স্থিতিশীল পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে চীনা সেনা। অনুরাগ বলেন, আমরা গত চার মাস ধরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুঝতে পারছি, পরিস্থিতির অবনতিতে চীনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এলএসিতে  উত্তেজনা কমাতে  চীনের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে জানান অনুরাগ। তিনি বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে আগ্রহী। চীনের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছি।

এদিকে ভারতীয় মিডিয়া দ্য হিন্দু এক সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেপসাং সমভূমি থেকে চুশুল পর্যন্ত এলএসি বরাবর অঞ্চলগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী নিয়মতান্ত্রিকভাবে একত্রিত হচ্ছে। দেপসাং সমভূমির টহল পয়েন্ট ১০-১৩ এর মধ্যে ভারতের দাবি করা এলএসির প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চীন। গালওয়ান উপত্যকায় প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার ও হট স্প্রিংস অঞ্চলে ১২ বর্গ কিলোমিটার জায়গা চীনের নিয়ন্ত্রণে। প্যানগং সোতে চীনের নিয়ন্ত্রণে আছে ৬৫ বর্গকিলোমিটার ও চুশুলে চীন ২০ বর্গকিলোমিটার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্যানগং সো (হ্রদ) এর কাছে ফিঙ্গার ৪-৮ অঞ্চল পর্যন্ত চীনা বাহিনীর দখলে আছে। ৪-৮ এর মাঝখানে পাহাড়সহ হিসাব করলে জায়গাটি প্রায় আট কিলোমিটার।