করোনা মহামারি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশুদ্ধ বাতাসের গুরুত্ব শিখিয়েছে আমাদের। গত কয়েক শতাব্দী ধরে মানুষের মাথাব্যথার কারণ ছিল কলকারখানার দূষিত বাতাস। তবে করোনা ভাইরাস মহামারি দেখা দেওয়ার পর মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছে যে কোনো আবদ্ধ স্থানের বাতাসের প্রকৃতির ওপর। কারণ আবদ্ধ বাতাসে যদি করোনা ভাইরাস ভেসে বেড়ায় তাহলে তা যে কোনো সুস্থ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে তাকেও অসুস্থ করে তুলতে পারে। যে কোনো অফিস-আদালত, যানবাহন কিংবা প্লেনের ভেতরের বাতাস দূষিত কি না তা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লেনের অভ্যন্তরের বাতাস কতোটা নিরাপদ সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।
করোনা সংক্রমণ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে বেশির ভাগ বিমান সংস্থা ভেতরের বাতাস পরিশোধনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বলা হচ্ছে হাই ইফিসিয়েন্সি পার্টিকুলেট এয়ার (এইচইপিএ) ফিল্টারের মাধ্যমে প্লেনের ভেতরের বাতাস পরিশোধনের কারণে তা রেস্টুরেন্ট, পানশালা, যে কোনো সুপারশপ কিংবা বন্ধুর বাড়ির ড্রয়িং রুমের চেয়ে হয়ে উঠছে নিরাপদ। এই পদ্ধতিতে বিমানের ভেতরের ছাদ থেকে অত্যন্ত দ্রুত বাতাস নির্গত হয় যা কি না বিমানের নিচের অংশ থেকে শুরু করে জানালা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পুরো এলাকাকে দূষণমুক্ত করে তোলে। প্রতি ৩ মিনিটে বিমানের কেবিনের বাতাসকে পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়। এই পদ্ধতিতে বাতাসে থাকা সার্স-কোভ-টু এর মতো অতি সূক্ষ্ম ভাইরাসকেও শোধন করা সম্ভব। সাধারণত বিমানের অভ্যন্তরে জীবাণু কিংবা ভাইরাসবাহী অতি সূক্ষ্ম পার্টিকুলেট খুবই কম পরিমাণে থাকে। এ কারণে বিমানের ভেতরের পরিবেশ বেশ পরিষ্কার এবং নিরাপদই থাকে। সেখানে অনেক বেশি মাত্রায় বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকায় বিমানের অভ্যন্তরে অতি সূক্ষ্ম পার্টিকুলেট থাকাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে পুরোনো কিংবা ছোট বিমানে সাধারণত এই ধরনের এইচইপিএ ফিল্টার সুবিধা থাকে না। বিমানের বাতাস যদি ফিল্টার করার সুবিধা না থাকে তাহলে যাত্রী, বিমানের ক্রু এবং স্টাফদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ বিমানের মধ্যে যদি একজনও করোনা আক্রান্ত থাকে তাহলে তা অন্য সবাই সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। —ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক